অল্প খরচে কম সময়ে সঠিক বিচার পেতে গ্রাম আদালতে তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বল্প সময়ে ও স্বল্প খরচে ন্যায়বিচার পৌঁছে দিতে যুবদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে (২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) সোমবার সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলার যুব উন্নয়ন অফিসের উদ্যোগে প্রশিক্ষণরত যুবকদের নিয়ে ‘গ্রাম আদালত আইন-২০২৬ ও এর কার্যকারিতা’ বিষয়ক একটি বিশেষ সচেতনতামূলক ও প্রচারণা সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং গ্রাম আদালতের উপর নির্মিত ভিডিও প্রদর্শন ও লিফলেট বিতরন করা হয়।
এটি “গ্রাম আদালত” (Village Court) নামেই পরিচিত। এটি সারা দেশের ন্যায় বাংলাদেশ সরকার ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন ও ইউএনডিপির আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় স্থানীয় সরকার বিভাগের স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্থবায়ীত হচ্ছে গ্রাম আদালত এবং গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০২৪) অনুযায়ী গঠিত একটি স্থানীয় বিচার ব্যবস্থা, যা ইউনিয়ন পরিষদে ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তি করে।
প্রশিক্ষণের মূল বিষয়বস্তু ছিল প্রশিক্ষণ কর্মশালায় যুব উন্নয়ন অফিসের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট গ্রাম আদালতের উপজেলা সমন্বয়কারী মোঃ শফিকুল ইসলাস গ্রাম আদালতের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বিশেষ করে সহজ বিচার ব্যবস্থা: মাত্র ১০ থেকে ২০ টাকার বিনিময়ে কীভাবে ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব। দ্রুত সমাধান: প্রচলিত আদালতের দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি। গ্রা আদালত গঠন, এখতিয়ার ইত্যাদি। যুবদের ভূমিকা: প্রশিক্ষিত যুবকরা যেন তাদের নিজ নিজ এলাকায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে পারেন এবং সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে পারেন।
অনুষ্ঠানে অমলেন্দু কুমার দাশ, সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাবলেন, “গ্রামের সাধারণ মানুষ অনেক সময় না বুঝে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে থানা বা জেলা জজ কোর্টে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে যান। যুবকরা যদি গ্রাম আদালত সম্পর্কে মানুষকে সঠিক ধারণা দেয়, তবে সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং এ দেশের মামলার জট কমবে।”
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী একজন প্রশিক্ষণার্থী জানান, আমরা আগে জানতাম না যে ক্ষতিপূরন (৩) তিন লক্ষ টাকার নিচে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে এত সহজে বিবাদ মেটানো যায়। এখন থেকে আমরা নিজেরা তো জানলামই, এলাকার মানুষকেও গ্রাম আদালতের সেবা নিতে উৎসাহিত করব।