রূপগঞ্জে সড়কে যানযট নিরসনে কাজ করছে, একদল স্বেচ্ছাসেবক

রাসেল মিয়া প্রকাশিত: ১৯ মার্চ , ২০২৫ ১৫:৩৯ আপডেট: ১৯ মার্চ , ২০২৫ ১৫:৩৯ পিএম
রূপগঞ্জে সড়কে যানযট নিরসনে কাজ করছে, একদল স্বেচ্ছাসেবক

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলামের নির্দেশনায় জনগণের নির্বিঘ্ন যাতায়াত এবং সড়ক মহাসড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে  ও জননিরাপত্তায় একদল স্বেচ্ছাসেবীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কাজে যুক্ত করা হয়েছে। এতে কাজ করছেন বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং স্কুল কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থী।  ছাত্র এবং সামাজিক সংগঠন যৌথভাবে ১ম রমজান সকাল ৮টা থেকে রাত্র পর্যন্ত উপজের সড়ক মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলাতে ট্রাফিকের ভূমিকায় নিয়মিত কাজ করছেন। পুরো রমজান মাসজুড়েই তাদের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানা যায়।  প্রশিক্ষণ প্রদান করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কাজে যুক্ত করা হয়েছে। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এসব সড়কের যান চালক ও সাধারণ যাত্রীরা।   সরেজমিনে দেখাযায় রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রনে উপজেলার তারাব, রুপসী, ভুলতা, গোলাকান্দাইল, কাঞ্চন ব্রীজ, মায়ারবাড়ি, ইছাখালি সেতু এবং রূপগঞ্জ সদরের রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে উপজেলা প্রশাসনের লোগো সংবলিত গ্রিণ কটি গায়ে জড়িয়ে লাঠি হাতে সহায়ক ট্রাফিকের ভূমিকায় কাজ করছেন স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা। এসব সড়কে জ্যাম ছিলো নিত্য দিনের  বিষয়। কিন্তু সেই চিত্রের পরিবর্তন ঘটিয়েছে প্রায় ৫০ জনের একদল সামাজিক সংগঠক ও শিক্ষার্থীরা। এরা রাস্তায় শৃঙ্খলা ফেরাতে সড়কের অবস্থান নিয়ে ‘ট্রাফিক পুলিশের’ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের এমন ভূমিকায় উচ্ছ্বসিত সাধারণ জনগন।  জানাযায় উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে এলো মেলো ভাবে যানবাহন চলাচল করায় যানজটসহ সড়কে বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তাছাড়া ঈদকে টার্গেট করে সড়কে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতির প্রবনতা দেখা গেছে। আগামী পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সড়কে নির্বিঘ্নে যান চলাচলের লক্ষে এবং ঈদ যাত্রাকে স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা নির্বাহি অফিসার সাইফুল ইসলাম পুলিশের পাশাপাশি সহায়ক ট্রাফিক ব্যবস্থা চালুর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন। উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ সময়োপযোগী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ পুলিশ বিভাগের কয়েকজন সদস্যের পক্ষে সড়ক নিয়ন্ত্রণ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। ছাত্র এবং সামাজিক সংগঠন যৌথভাবে পুলিশের সাথে কাজ করলে এ কাজ সহজ হবে।  এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহায়ক ট্রাফিক অনির্বাণ ডিজেবল চাইল্ডকেয়ার এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মোঃ সোহেল রানা বলেন, আমরা উপজেলা ইউএনও স্যারের নির্দেশে  উপজেলার বিভিন্ন সড়ক মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অবস্থান নিয়ে ট্রাফিকের আদলে কাজ করছি। আমরা চাই রাস্তায় শৃঙ্খলা ফিরে আসুক। আমরা দেখি মোড়গুলোতে গণপরিবহন পাল্লা দিয়ে যাত্রী ওঠানামা করিয়ে থাকে। এতে অনেক সময় যাত্রীরা দুর্ঘটনার মধ্যে পড়েন। যাত্রীরা যাতে নিরাপদে গাড়ীতে উঠতে ও নামতে পারেন সেই কাজটি করার চেষ্টা করছি। আমরা নিশ্চিত করতে চাই নির্দিষ্ট জায়গা ব্যতিত কোথাও গণপরিবহন দাঁড়াতে পারবে না। এই কাজটি নিশ্চিত হলে রাস্তার যানজট কিছুটা হলেও কমে যাবে। তবে চার চাকার যান চালকরা কথা শুনলেও ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক, রিক্সা, মোটরসাইকেল এবং সিএনজি চালকরা কথা শুনতে চায়না। তাছাড়া সড়কে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই রোধে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার চেষ্টাও করছি।  এ দিকে শিক্ষার্থীদের এমন কাজে উচ্ছ্বসিত সাধারন মানুষ। বিশেষ করে চালকরা বেশি খুশি। অন্যান্য সময় রাস্তায় বের হলেই পুলিশ বিভিন্ন ঝামেলা করতো। এখন সেই ধরনের জটিলতায় পড়তে হয়না। তাই শিক্ষার্থীদের কাজে আমরা অনেক খুশি।  উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ, মাইকিং ও প্রচারাভিযান পরিচালনা করার লক্ষে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবীরা ভূমিকা রাখবে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকদের এই উদ্যোগ শুধু যানজট নিরসনের জন্যই নয়, বরং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে সুফল বয়ে আনতে কাজ করবে। এই কার্যক্রম সফল হলে ভবিষ্যতে এটি আরও বৃহৎ পরিসরে সম্প্রসারিত করা হবে, যাতে সার্বিকভাবে নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়।

এই বিভাগের আরোও খবর

Logo