রাজশাহীর তানোর উপজেলার গোল্লাপাড়া বাজারের ব্যবসায়ীদের মুখে ঈদের খুশি নেই। রমজানের ২২তম দিন, অথচ জমে ওঠেনি ঈদের বেচাকেনা। মাত্র ৮ দিন পরই ঈদুল ফিতর, কিন্তু বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা কম। ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়ে সময় পার করছেন।
গোল্লাপাড়া বাজারে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১০০টি দোকান রয়েছে। প্রতিবছর রমজানের শুরু থেকেই এখানে ঈদের কেনাকাটা জমে ওঠে। বিশেষ করে বাজারের দুটি বড় দোকান— পোশাক বাজার ও পারভিন গার্মেন্টস— সবসময় ক্রেতাদের ভিড়ে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু এবছর চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
বাজারের ব্যবসায়ীদের মতে, এবছর বেচাকেনা কম হওয়ার প্রধান কারণ হলো বরেন্দ্র অঞ্চলে আলুর দরপতন। কৃষি প্রধান এই এলাকায় আলু চাষিদের আয় কমে যাওয়ায় তাদের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ নেই। ফলে তারা নতুন পোশাক বা ঈদের কেনাকাটার বিষয়ে আগ্রহ কম দেখাচ্ছেন। গোল্লাপাড়া পোশাক বাজারের ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম বলেন বরেন্দ্র অঞ্চলে আলুর বাজারের খারাপ অবস্থার কারণে মানুষের হাতে টাকা নেই। তাই এবছর কেনাকাটা একেবারে কম। গত বছরের তুলনায় এবার বেচাকেনা অর্ধেকেরও নিচে নেমে গেছে। পারভিন গার্মেন্টসের মালিক জব্বার বলেন গত বছরের তুলনায় বিক্রি অনেক কম। তবে
আলহামদুলিল্লাহ, খারাপের মধ্যেও ভালো আছি। কিন্তু আশানুরূপ বিক্রি হচ্ছে না। মানুষ দোকানে আসছে, কিন্তু কেনাকাটা না করেই চলে যাচ্ছে।
বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। তারা বলছেন, প্রতি বছর রমজানের শেষের দিকে বিক্রি বেড়ে যেত। কিন্তু এবার সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ঈদ ঘনিয়ে এলেও দোকানগুলোতে তেমন ভিড় নেই। বিভিন্ন দোকানের বিক্রেতারা জানান, সাধারণত এই সময়ে পোশাক, জুতা, কসমেটিকস, শিশুদের পোশাকসহ নানা ধরনের পণ্য কেনার ধুম পড়ে। কিন্তু এবার ক্রেতাদের আগ্রহ কম। গোল্লাপাড়া বাজারের কসমেটিকস ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন,
"রমজানের ২২তম দিন পার হয়ে গেল, অথচ এখনো বেচাকেনা জমেনি। আগের বছর এই সময়ে আমরা এত ব্যস্ত থাকতাম যে খাওয়ার সময়ও পেতাম না। কিন্তু এবার দোকানে বসে সময় কাটাচ্ছি। এই অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ কৃষি ও ছোটখাটো ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে আলু চাষের ওপর এখানকার অর্থনীতি অনেকটাই নির্ভরশীল। কিন্তু এবছর আলুর দাম কমে যাওয়ায় কৃষকরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। ফলে ঈদের কেনাকাটায় তাদের ব্যয় সংকোচন করতে হচ্ছে। বাজারের ব্যবসায়ীরা শেষ মুহূর্তে বিক্রি বাড়ার আশা করলেও অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এবছর আর আগের মতো ব্যবসা হবে না। ঈদের মাত্র কয়েকদিন বাকি, তাই ব্যবসায়ীদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বেড়েছে। তানোরের ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, আগামী বছর পরিস্থিতি ভালো হবে এবং মানুষ আবার আগের মতো ঈদের বাজারে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেবে। তবে এবারের মন্দা পরিস্থিতি তাদের জন্য একটি কঠিন শিক্ষা হয়ে থাকছে।