এক সময়ে নরসিংদী জেলা শহরের সাধারন হকার নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবারের আশীর্বাদে এখন শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছে । বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তার অর্থনৈতিক উত্থান শুরু। আওয়ামী লীগ বন্দনায় লাঙ্গলবন্দর জন্মাষ্টমী স্নান কমিটির সভাপতির পদটিও দখল করে সেই সময়ে। দীর্ঘ ৯ বছর অবৈধ ভাবে এই সভাপতি পদের প্রভাব খাটিয়ে,প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লোপাট করেন তিনি । কথিত আছে,নারায়ণগঞ্জ সদরের টানবাজার সুতাপট্টির হিন্দু ব্যবসায়ীদের নিকট হইতে বিভিন্ন পন্থায় চাঁদা উত্তোলন করে ওসমানদেরকে উপঢৌকন হিসেবে মাসোয়ারা প্রদানের মূল কারিগর ছিলেন সরোজ কুমার সাহা। দুর্নীতির মাধ্যমে কামাই করা কোটি কোটি টাকা ইন্ডিয়া এবং ইউরোপে পাচারের অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। নরসিংদী শহরের একজন সাধারণ হকার থেকে ভূমিদস্যুতা করে সে এখন প্রায় ২০টি বাড়ির মালিক। নারায়নগঞ্জ ও নরসিংদীতে যারাই তাঁর অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতো,তাদেরকে তাঁর নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী দিয়ে নির্যাতন ও হয়রানি করা হতো। এই ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস করতো না।
সোনারগাঁ এর বারদীতে লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রমে অবৈধ ভাবে উপদেষ্টা হয়ে দীর্ঘদিন যাবত চাল,ডাল ও লাকড়ির ব্যবসার আড়ালে বিভিন্ন কৌশলে লুটপাট করে সরোজ ও তার ভাগিনা বারদী লোকনাথ আশ্রমের কোটি কোটি টাকা তসরুপ করার খবর আশ্রমের মানুষের মুখে মুখে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার অন্যায় কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি,যে তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করত তাকেই বিভিন্ন মামলা-হামলা দিয়ে হয়রানি করা হতো। ব্যক্তি জীবেনও এই সরোজ কুমার সাহা উৎশৃংখল প্রকৃতির। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার এক কাছের লোক বলেন,সরোজ কুমার সাহা তার নিজের বউ-বাচ্চা ঢাকার উত্তরার বাসায় রেখে,নারায়ণগঞ্জের টান বাজারের বাড়ীতে শ্যালিকার সাথে বসবাস করেন। এনিয়ে তার দাম্পত্য জীবন সুখময় নয়।
সরোজ কুমার সাহা একইসময়ে বিভিন্ন মন্দিরে অনেক গুলো পদ প্রাপ্তির সুযোগে পদের অপব্যবহার করেন। সে নাঙ্গলবন্ধ স্থান উদযাপন কমিটির সভাপতি, শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম বারদী এর (সোনারগা নারায়ণগঞ্জ) উপদেষ্টা,কালী মন্দির,চিনিসপুর নরসিংদীর সভাপতি। এর পূর্বেও সে বিভিন্ন মন্দির কমিটিতে ছিলেন তার একঘেয়েমি ও অনৈতিক কার্যকলাপের জন্য সেখান থেকে তাকে বের করে দিতে বাধ্য হয় মন্দির কমিটি। সর্বশেষ বাধ্য হয়ে সাধু নাগ মহাশয়ের মন্দির,নারায়ণগঞ্জ হইতে তাকে অপসারণ করা হয়। ওসমান পরিবারের আশীর্বাদ পুষ্ট হয়ে বিগত সরকারের আমলে পদ-পদবীর প্রভাব খাঁটিয়ে,বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক বনে যাওয়া সরোজ কুমার বর্তমান সময়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নেতাদের কাঁধে ভর করে আবারও বিভিন্ন মন্দিরে ঢুকার জন্য চেষ্টা করছে। কিন্তু কোন মন্দির কমিটির লোকজনই তাহাকে পছন্দ না করার কারনে,এখন সে বিভিন্ন অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
এই ব্যাপারে সরোজ কুমার সাহার মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে লাইনটি কেটে দেন, পরে আবারো চেষ্টা করলে ফোনটি রিসিভ করেননি।