নড়াইল কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) দক্ষ জনশক্তি তৈরির মহৎ উদ্দেশ্য এখন প্রশ্নবিদ্ধ। সরকারি প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়ে আত্মকর্মসংস্থান তৈরির চেয়ে ‘প্রশিক্ষণ ভাতা’ হাতিয়ে নেওয়াটাই এখানে মূল লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। একই মুখ বারবার ভিন্ন ভিন্ন ট্রেডে ভর্তি হওয়ার ফলে সাধারণ ও নতুন প্রশিক্ষণার্থীরা ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
একই প্রশিক্ষণার্থী, বারবার ভিন্ন ট্রেড
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নড়াইল টিটিসি-র প্রতিটি ব্যাচেই ঘুরেফিরে পুরাতন প্রশিক্ষণার্থীদের আধিপত্য। নিয়ম অনুযায়ী একজন প্রশিক্ষণার্থী একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে একটি ট্রেডেই প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা থাকলেও, এখানে চিত্র ভিন্ন। একটি ট্রেডের মেয়াদ শেষ হতে না হতেই তারা অন্য একটি নতুন ট্রেডে ভর্তি হয়ে যাচ্ছে। মূলত প্রশিক্ষণের শেষে পাওয়া সরকারি ভাতার অর্থ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধার লোভেই তারা এই চক্রাকার পদ্ধতি বেছে নিয়েছে। এর ফলে কারিগরি শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।
ভর্তির অন্তরালে ‘সুপারিশ’ ও ‘সিন্ডিকেট’
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণ মেধা বা আগ্রহের ভিত্তিতে নড়াইল টিটিসিতে ভর্তি হওয়া এখন প্রায় অসম্ভব। ভর্তি প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে রাজনৈতিক সুপারিশ স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের শক্তিশালী সুপারিশ ছাড়া সাধারণ আবেদনকারীদের ভর্তির সুযোগ মিলছে না। টিটিসি কর্তৃপক্ষের একটি অংশের পরোক্ষ মদদে এই অনিয়ম ডালপালা মেলছে। একই ব্যক্তি বারবার ভর্তি হলেও ডাটাবেস বা তথ্য যাচাইয়ের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
ভাতার টাকা নিজেদের পকেটে রাখতে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিকে তাদের স্থায়ী আয়ের উৎস বানিয়ে ফেলেছে। নড়াইলের বেকার যুবক ও কারিগরি শিক্ষায় আগ্রহী সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই অনিয়মের কারণে ক্ষুব্ধ। লোহাগড়া থেকে আসা এক আবেদনকারী জানান, “আমি পর পর দুইবার আবেদন করেও ভর্তির সুযোগ পাইনি, অথচ দেখছি আমার পরিচিত একজন ইতিমধ্যে তিনটি ট্রেড শেষ করে চতুর্থটিতে ভর্তি হয়েছে।”
এই বৈষম্যের ফলে একদিকে যেমন সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে নড়াইলের বিশাল একটি জনগোষ্ঠী দক্ষ হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে।
এই অনিয়মের বিষয়ে টিটিসি কর্তৃপক্ষের দায়সারা ব্যখ্যা ও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে অসন্তোষ দানা বাঁধছে। সচেতন মহলের দাবি, ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে ডিজিটাল ডাটাবেস ব্যবহার করা এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন যাতে কেউ একবারের বেশি সরকারি সুযোগ নিতে না পারে।
একই সঙ্গে, ভর্তি প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করে প্রকৃত মেধাবী ও আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন নড়াইলবাসী।






