১৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে প্রতারনা. মামলা করায় পাচারকারী আদম ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে মামলা তুলে নেয়াসহ প্রাননাশের হুমকিতে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন।
রবিবার সকালে প্রেসক্লাব কর্যালয়ে বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকুরী
দেয়ার প্রলোভনে, ১৭ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জে একটি চিহ্নিত প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আদলতে মামলার পর সংবাদ সম্মেলন করেছে বাদী সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ শাহনাজ পারভীন।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন তার একমাত্র অনার্স পড়ুয়া ছেলে জিসান আল আহাদ পারভেজ কে বিদেশে তথা অস্ট্রেলিয়ায় পাঠাতে কমপক্ষে ২০ লাখ টাকা প্রয়োজন মর্মে দাবী করেন প্রাননগর এলাকার জনৈক সুলতান মৌলভীর ছেলে জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, তার ভাই পেশেন্ট কেয়ার ক্লিনিকের মালিক শফিকুল ইসলাম এবং ব্রাক্ষ্মনভিটার মৃত হেকামদ্দিনের ছেলে ফজলার রহমান।
প্রতারক চক্রের সদস্যরা অভিযোগকারীর পুর্ব পরিচিত এবং প্রত্যেকের সাথে সম্পর্ক ভালো ছিল।
তাই তাদের কথায় বিশ্বাস করি, ছেলের উন্নত ভবিষ্যতের জন্য তাকে কোম্পানী ভিসায় অষ্ট্রেলিয়া পাঠাতে ১৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা কন্টাক্ট হয় এবং গত বছর ইংরেজি ২০২৫ সালের ডিসম্বর মাসে ৩ দফায় সমুদয় টাকা প্রতারকদের উপস্থিতি ও সম্মতিতে জাহিদুল ইসলাম জাহিদ কে প্রদান করি।
চুক্তিমতে চলতি বছর ফেব্রুয়ারী মাসের ১ম সপ্তাহে আমার ছেলেকে অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর চুড়ান্ত দিনক্ষন নির্ধারন করা হয়।
কিন্তু টাকা গ্রহনের পর চুক্তি অনুযায়ী কোন কাজ না করে টালবাহানা করতে থাকে, নানান অজুহাত দেখায়, আজ না কাল-পরশু, এমন এক পর্যায় আমি হতাশায় ভুগতে ছিলাম।
প্রতারক চক্রের মুলহোতা জাহিদুল ইসলাম জাহিদ পরিবার নিয়ে সাভারে বসবাস করে।
গত ৭ এপ্রিল’২০২৬ ইং তারিখে ফজলার রহমান ও শফিকুল ইসলাম হঠাৎ আমাকে জানায় আগামী ১০ এপ্রিল’২৬ সকাল ১১.১৫ মিনিটে আপনার ছেলের ফ্লাইট।
তাদের কথা এবং নির্দেশনা অনুযায়ী ৯ তারিখ রাতে ট্রেনযোগে আমি আমার পুত্রসহ স্বজনরা ঢাকা বিমান বন্দরে গিয়ে একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করি।
রাতেই সেখানে জাহিদ ও ফজলার ভিসা, বিমান টিকিটসহ অন্যান্য কাগজপত্র প্রদান করলেও জিসানের পাসপোর্ট তার কাছেই জমা রাখে এখন পর্যন্ত ফেরত দেয় নাই।
টিকিট, ভিসা ও ম্যানপাওয়ার সবই ছিল ভুয়া এবং প্রতারক শফিকুলের পেশেন্ট কেয়ার ক্লিনিকে আমার ছেলের ডাক্তারি পরীক্ষার জাল রিপোর্ট দেয়া হয় ।
বাংলাদেশ বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ আমার ছেলের যাত্রা বাতীল করে দেয়, প্রতারক জাহিদ ও ফজলার রহমান বিমান বন্দর থেকে আমাদেরকে না জানিয়ে পালিয়ে যায়।
আমরা হোটেলে ফিরে এসে মোবাইল করলে জাহিদ জানায় ১২ অথবা ২২ এপ্রিল’২৬ তারিখে পাঠানো হবে কিন্তু প্রতারনাই করেছে, পাঠায় নাই।
দীর্ঘদিন কালক্ষেপন এবং তারিখের পর তারিখ নির্ধারন করেও পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ায় বিশ্বাস ভঙ্গ হয়।
ফলে আমি আমার দেয়া ১৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা ও ছেলের পাসপোর্টের জন্য চাপ দিলে দিচ্ছি দিব বলে টালবাহানা করে অর্থাৎ আত্মসাতের পথ বেছে নিয়েছে।
আামার সন্দেহ চক্রটি সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী। তারা আমার ছেলেকে বিদেশে নিয়ে বিক্রি করে দিত।
দেন-দরবার করেও প্রতিকার পাই নাই। কিংকর্তব্য বিমুঢ় হয়ে অগত্যায় গত ২৬ এপ্রিল’২৬ মানব পাচারকারী আদম ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সদস্যদের বিরুদ্ধে দিনাজপুর বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে সিআর-২০৭ নম্বর মামলা রুজু হয়।
বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে অফিসার ইনচার্জ বীরগঞ্জ থানাকে প্রতিবেদন দাখিলসহ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিষয়টি জানতে পেরে মুলহোতা জাহিদুল ইসলাম জাহিদসহ অপরাপর প্রতারকগন মোবাইল ফোনে এবং প্রকাশ্যে প্রাননাশের হুমকি দিয়ে বলে বেঁচে থাকতে হলে মামলা তুলে নিতে হবে অন্যথায় তারা আমিসহ আমার পুত্রকে হত্যা করে লাশ গুম করবে।
তারা আরও বলে আমরা বিএনপি সরকার দলীয় নেতা, প্রধানমন্ত্রী, এলজিআরডি মন্ত্রী ও মহাসচিব তাদের ঘনিষ্ট লোক, বীরগঞ্জের সব নেতাই তাদের পকেটে বিধায় এসব মামলায় ভয় পাই না।
পক্ষান্তরে আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একজন সাধারন নারী মানুষ। আমার প্রদত্ত টাকা উদ্ধারসহ ন্যায় বিচারের জন্য আইন, প্রশাসন, বিচারকসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
প্রতিবার টাকা লেনদেন ও পুরো ঘটনার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী জিসান আল আহাদ পারভেজ (ভিকটিম), হাসিনা বেগম, আমিনুল ইসলাম, এনামুল হকসহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনাটি সত্য বলে স্বীকার করেছেন এবং সংবাদ সম্মেলনে তারাও সকলে উপস্থিত ছিলেন।





