ভোলার বাংলাবাজার চাঁদা দাবীর টাকা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী পক্ষের বিরুদ্ধে। শনিবার (দিবাগত রাত) সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাবাজার এলাকায় ব্যবসায়ী রুবেল ও রাসেলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রুবেল ও রাসেল দীর্ঘদিন ধরে ভোলার বাংলাবাজার সংলগ্ন এলাকায় বালুর ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। একই এলাকার মানঞ্জুর বিশ্বাস তাদের ব্যবসার ওপর নিয়মিত চাঁদা দাবী করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, শনিবার বিকেলে বাংলাবাজার ব্রিজের ওপর রাসেলের মোটরসাইকেল থামিয়ে মানঞ্জুর বিশ্বাস টাকা দাবী করেন। এতে রাসেল টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে রাত ১১টার দিকে বাংলাবাজারে রাসেলের মার্কেটের কাছে আবারও কথা কাটাকাটি হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মানঞ্জুর বিশ্বাস, জুয়েল বিশ্বাস, নিজাম বিশ্বাস, জিসান বিশ্বাস ও মিরাজ কাজীসহ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল রুবেল ও রাসেলের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বসতঘরের মালামাল ভাঙচুর করে এবং ঘরের আলমিরা ভেঙ্গে নগদ প্রায় ১০ লাখ টাকা ও প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় বলে দাবি করেন রাসেলের মা হোসনে আরা বেগম।
রুবেলের স্ত্রী তানহা বলেন, আমাদের ঘরে মানঞ্জুর বিশ্বাসের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রসহ একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর চালায় এবং ঘরের আলমিরা ভেঙ্গে নগদ ১০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়া আমাদের একটি মোটরসাইকেল ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে। আমরা এখন নিরাপত্তাহিনতায় ভুগছি।
রাসেল এর চাচাতো ভাই মো: সুজন বলেন, আমি ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। কিন্তু তারা রাসেলদের বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। অথচ তারা সেখান থেকে এসে আমার বাড়ীতে গিয়ে আমাকে হুমকি দিয়ে আসছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযোগের বিষয়য়ে মানঞ্জুর বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করলে সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান, ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে বাংলাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তাজিব ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বাজারের কাছেই বাসা-বাড়ীতে হামলার খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়। এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি, পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।






