উদ্ধার করা ৯৬ কেজি গাঁজা আদালতে জমা না দিয়ে বিক্রির অভিযোগে নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দুই কর্মকর্তাকে ক্লোজড করা হয়েছে। শনিবার (১৫ মার্চ) নরসিংদী পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান তাদের পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেন। নরসিংদী কোর্ট পরিদর্শক খন্দকার জাকির হোসেন, নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পরিদর্শক (ওসি) এস এম কামরুজ্জামান। এ ঘটনায় দ্রুত ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি একেএম আওলাদ হোসেন তাদের বদলির নির্দেশ দেন। সূত্র জানায়, এসআই শামিনুর রহমান ওসি মালখানার গাঁজা ধ্বংস না করে বিক্রি করার অভিযোগে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এরপর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তদন্ত শুরু হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি, শিবপুরের সৃষ্টিগড় এলাকা থেকে ৯৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ। কিন্তু আদালতে জমা না দিয়ে তা মাধবদীর কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মায়া প্রধানের কাছে ১৫ হাজার টাকা কেজি দরে ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। পরে কাগজে-কলমে ধ্বংস দেখানো হয়, যদিও বাস্তবে তা হয়নি। তদন্তে উঠে এসেছে, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হক ও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ লুৎফল মজিদ নয়ন কাগজপত্রে মাদক ধ্বংসের অনুমোদন দেন। কিন্তু সেটি শুধুই কাগজে-কলমে, বাস্তবে কিছুই ধ্বংস করা হয়নি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হকের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন। পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান বলেন, "এটি পুলিশ বাহিনীর জন্য অত্যন্ত লজ্জার। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ওসি, ডিবি কামরুজ্জামান নানা মিথ্যা কথা বলছে।" তিনি জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। তবে তদন্ত শেষ না হওয়ায় সময়সীমা আরও তিন দিন বাড়ানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, "এ ঘটনায় কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত কথাবার্তা আমাদের শুনতে হয়েছে, যা পুলিশের শৃঙ্খলাবিরোধী এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটি বিভাগীয়ভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।"