মাগুরার শালিখায় শিক্ষার্থীদের চলাচলের রাস্তা যেন ‘মরণফাঁদ’: ১০ মাসেই ধসে গেল সলিং

মাগুরার শালিখা উপজেলার দরিখাটোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার একমাত্র ইটের সলিং রাস্তাটি এখন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মরণফাঁদ’-এ পরিণত হয়েছে। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বনি আমিনের উদ্বোধন করা এই রাস্তাটি মাত্র ১০ মাস যেতে না যেতেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

​সরেজমিনে দেখা গেছে, দরিখাটোর ওই রাস্তার প্রতিটা ইট বর্তমানে আলগা হয়ে উপরে উঠে গেছে। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে মাটি ধসে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির দিনে কাদার ভেতরে অপরিকল্পিতভাবে নিম্নমানের ইট বসানোর ফলে আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। বর্তমানে এই রাস্তা দিয়ে শিক্ষার্থীরা পায়ে হেঁটে যেতে গিয়ে প্রায়ই আহত হচ্ছে। রাস্তাটির অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, স্কুল শিক্ষকরা সাইকেল বা মোটরসাইকেল নিয়ে যাতায়াত করতে পারছেন না।

​স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, টিআর প্রকল্পের আওতায় প্রায় দেড় লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই রাস্তাটি সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু কাজ শেষ করার সময় ঠিকাদার বা পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) চরম গাফিলতি করেছে। কাদার ওপর নিম্নমানের ইট দিয়ে তড়িঘড়ি করে দায়সারা কাজ শেষ করা হয়েছে। এছাড়া, সংস্কারের পরপরই এই রাস্তা দিয়ে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ভারী মাটির ট্রাক ও বালুর গাড়ি চলাচল করায় রাস্তাটি দ্রুত ধ্বংসের মুখে পড়ে।

​জনগণের প্রশ্ন— কাদার ওপর এমন নিম্নমানের কাজ করার পরও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় থেকে কীভাবে এই কাজের বিল অনুমোদন করা হলো? দ্রুত এই রাস্তাটি সংস্কার করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন