নড়াইলে ১৫ হাজার কোটি টাকার কথিত ‘ডিজনিল্যান্ড’ প্রজেক্ট নিয়ে চরম বিভ্রান্তি: মহা-প্রতারণার আশঙ্কা

​নড়াইল জেলায় প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘KSF Arabian Disneyland’ নামক একটি মেগা প্রকল্প স্থাপনের খবর ছড়িয়ে পড়ায় জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে এই প্রকল্পের ভিত্তি ও স্বচ্ছতা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
​সম্প্রতি একটি টেলিভিশন চ্যানেলে নড়াইলে প্রায় ১৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে আন্তর্জাতিক মানের “ডিজনিল্যান্ড মেগা পার্ক সিটি” উদ্বোধন ও আগামী ৩ বছরের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করার খবর প্রচারিত হলে গোটা নড়াইলবাসী বিস্মিত ও আনন্দিত হয়। সংবাদটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রকল্পটির বাস্তবতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলে- গণমাধ্যম কর্মী ইঞ্জিঃ খশরুল আলম পলাশের নেতৃত্বে একটি টিম ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানে বেশ কিছু রহস্যজনক প্রশ্ন, সন্দেহজনক উপস্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অসংগতি স্পষ্ট হয়।
​এই প্রতিবেদক অনুসন্ধানের মাধ্যমে এই কথিত প্রকল্পের একাধিক অসংগতি ও রহস্যজনক বিষয় শনাক্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে নড়াইলবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর কথিত ওই প্রতিষ্ঠানের জিএম পরিচয়দানকারী জনৈক জয় সিং এই প্রতিবেদকের ব্যক্তিগত মোবাইলে একাধিকবার ফোন করেন। তিনি তাদের প্রকল্পের স্বার্থে খবরটি সরিয়ে নেওয়ার বা ডিলিট করার জন্য বারবার অনুরোধ জানান।
​ফোনালাপের একপর্যায়ে এই প্রতিবেদক তাদের প্রতিষ্ঠানের বাস্তব অস্তিত্ব, প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা, আন্তর্জাতিক মূল কোম্পানির সাথে দাপ্তরিক যোগসূত্র এবং কেন একটি মেগা প্রজেক্টের অফিশিয়াল ই-মেইল অস্তিত্বহীন—এসব সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক প্রশ্ন উত্থাপন করলে কথিত ওই কর্মকর্তা কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। বরং বিষয়টি ‘গোপনীয়’ বা নড়াইলবাসীর জন্য ‘সারপ্রাইজ’ বলে সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
​সাধারণত ১৫ হাজার কোটি টাকার মতো বিশাল বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সমঝোতা স্মারক (MoU) বা জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা আবশ্যিক হলেও, নড়াইল জেলা প্রশাসন কিংবা বিনিয়োগ বোর্ড এ বিষয়ে কিছুই জানে না। আন্তর্জাতিক মানের কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে এবং অস্তিত্বহীন যোগাযোগের তথ্য ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগ বা জমির প্রলোভনে ফেলে কোনো বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতির ফাঁদ পাতা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে এখন জনমনে প্রবল সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
​প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার রহস্যজনক এই প্রকল্প সম্পর্কে এখন পর্যন্ত জাতীয় বিনিয়োগ বোর্ড, পর্যটন কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জেলা প্রশাসন বা জাতীয় গণমাধ্যম—কোনো পর্যায় থেকেই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। এ কারণেই প্রশ্ন উঠছে, এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একটি প্রকল্প সম্পর্কে দায়িত্বশীল কেউ কিছু না জানলেও কীভাবে তা হঠাৎ এত সঙ্গোপনে একটি মাত্র টেলিভিশন নিউজে প্রচারিত হলো?
​নড়াইলের সচেতন নাগরিক ও প্রশাসনকে এই ‘ভুয়া স্কিম’ বা রহস্যজনক প্রজেক্টের আড়ালে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের আর্থিক লেনদেন ও সহযোগিতা থেকে চূড়ান্ত সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন