বেগুনি-সাদা কচুরিপানার ফুলে অপরূপ সিংগাহারা নদীর জলাশয়

নীলফামারীর ডিমলায় প্রকৃতি সেজেছে নতুন রূপে। উপজেলার সিংগাহারা নদীসংলগ্ন জলাশয়, বিল ও নিচু জমিতে ফুটেছে বেগুনি-সাদা কচুরিপানার ফুল। পানির ওপর সবুজ পাতার ফাঁকে থোকায় থোকায় ফুটে থাকা এসব ফুলে সৃষ্টি হয়েছে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। প্রকৃতির এমন অনাড়ম্বর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, পথচারী ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।

সরেজমিনে উপজেলার সিংগাহারা নদী এলাকার বিভিন্ন জলাশয় ও বিল ঘুরে দেখা যায়, পানিতে ছড়িয়ে থাকা কচুরিপানার গাছে ফুটেছে বেগুনি ও সাদা রঙের ফুল। কোথাও কোথাও অসংখ্য ফুল একসঙ্গে ফুটে থাকায় দূর থেকে জলাশয়গুলোকে মনে হচ্ছে প্রাকৃতিক ফুলের গালিচা। প্রকৃতির আপন নিয়মে ফুটে ওঠা এসব ফুল পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

চলতি পথে এমন দৃশ্য চোখে পড়লেই অনেকে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছেন প্রকৃতির সৌন্দর্য। কেউ কেউ মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখছেন স্মৃতি হিসেবে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এসব ফুল নিয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনের মাঝে গ্রামীণ প্রকৃতির এমন স্বাভাবিক সৌন্দর্য মানুষের মনে প্রশান্তি এনে দেয়।

স্থানীয় শিক্ষার্থী সুলতান হোসেন বলেন, “প্রতিদিনের পড়ালেখার ব্যস্ততা ও ক্লান্তির মধ্যে প্রকৃতির এমন সুন্দর দৃশ্য মনকে অনেকটা প্রফুল্ল করে তোলে। জলাশয়ের ফুলগুলো দেখতে সত্যিই ভালো লাগে।”

কাজের ফাঁকে ঘুরতে আসা দুলাল বলেন, “যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততার মাঝে গ্রামবাংলার এমন শান্ত পরিবেশ ও ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে বেশ ভালো লাগে। প্রকৃতির এই স্বাভাবিক সৌন্দর্য মনে একধরনের প্রশান্তি এনে দেয়।”

ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ সুন্দরখাতা গ্রামের বাসিন্দা শাহিনুর ইসলাম বলেন, “একসময় বিল-ঝিলে অনেক বেশি কচুরিপানার ফুল দেখা যেত। এখন আগের মতো সব জায়গায় চোখে পড়ে না। এই ফুলের সঙ্গে আমাদের শৈশবের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এখনো ছোট ছোট শিশু-কিশোরদের ফুল নিয়ে আনন্দ করতে দেখি। তাদের দেখে নিজের শৈশবের কথা মনে পড়ে যায়।”

তবে কচুরিপানার ফুলের সৌন্দর্যের পাশাপাশি এর পরিবেশগত প্রভাবের বিষয়েও সতর্ক করেছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা।

ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না বলেন, “সিংগাহারা নদীর বিলে কচুরিপানার ফুল দেখতে সুন্দর হলেও অতিরিক্ত কচুরিপানা জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। জলাশয়ে অতিরিক্ত কচুরিপানা ছড়িয়ে পড়লে পানিতে আলো-বাতাসের প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং জলজ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি জলাশয়ের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।”

ঋতুবদলের এই সময়ে ডিমলার বিভিন্ন জলাশয়, বিল
ও নিচু জমিতে ফুটে থাকা বেগুনি-সাদা কচুরিপানার ফুল গ্রামীণ প্রকৃতিতে যোগ করেছে ভিন্নমাত্রা। সাধারণত অবহেলিত এই জলজ উদ্ভিদের ফুলই নতুন করে তুলে ধরছে গ্রামবাংলার চিরচেনা সৌন্দর্য। নদী, বিল, জলাশয় ও সবুজে ঘেরা এই জনপদে প্রকৃতির এমন দৃশ্য একদিকে যেমন মানুষের মনে প্রশান্তি জোগাচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে ঋতুবৈচিত্র্য ও গ্রামীণ প্রকৃতির অনন্য সৌন্দর্যের কথা।

 

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

বেনাপোল-যশোর-ঢাকা ও দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে প্রভাতী এক্সপ্রেস চালুসহ ছয় দফা দাবিতে রেলমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পের আওতায় বেনাপোল-যশোর-ঢাকা ও দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে প্রভাতী

Scroll to Top