শিক্ষার্থী পরিবহনে ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে শুল্ক-কর প্রত্যাহার

 শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য আমদানিকৃত ইলেকট্রিক বাসের ওপর থেকে সব ধরনের শুল্ক ও কর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এতদিন ইলেকট্রিক যানবাহন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি, ভ্যাটসহ মোট করভার প্রায় ৬২ শতাংশ ছিল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক পরিবহনের জন্য ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের পরিবহন ব্যবস্থায় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে এবং নগর পরিবহনে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে পারে।

বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা থাকলেও সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি খসড়া কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলেকট্রিক যানবাহন ব্যবহারে জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে ভর্তুকি ব্যয় হ্রাস পেতে পারে। পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ না থাকায় বায়ুদূষণ কমাতেও ভূমিকা রাখবে এই প্রযুক্তি।

বর্তমানে ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যাটারি প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে একবার চার্জে ২০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলাচল সম্ভব হচ্ছে, যা নগরভিত্তিক পরিবহনের জন্য উপযোগী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে ইতোমধ্যে ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। চীন এই খাতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে, আর নরওয়েতে নতুন গাড়ি বিক্রির অধিকাংশই এখন ইলেকট্রিক।

নীতিনির্ধারকদের ধারণা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের পরিবহন খাতে ধীরে ধীরে টেকসই পরিবর্তন আসবে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন