নীলফামারীর ডিমলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ধারাবাহিকভাবে ধর্ষণ ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ন্যায়বিচারের আশায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের নটাবাড়ী গ্রামের মৃত আব্দুল গনি মিয়ার কন্যা ও রংপুর কারমাইকেল কলেজের স্নাতক পড়ুয়া আরজিনা বেগম (২৬)এর সঙ্গে প্রায় চার মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় হয় একই ইউনিয়নের দক্ষিণ তিতপাড়া বড়জুম্মা গ্রামের মোকছেদ আলীর ছেলে রমজান আলীর। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অভিযোগে বলা হয়, সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে রমজান আলী নিয়মিত ভুক্তভোগীর বাড়িতে যাতায়াত শুরু করে। আরজিনা তার বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে একাই বসবাস করতেন। পরিবারের অন্য কোনো সদস্য না থাকায় অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে স্বামী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থানে তাকে নিয়ে যেত এবং বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এছাড়াও আরজিনার কাছ থেকে গত ৪ মাসে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয় রমজান আলী।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সর্বশেষ গত ১ মে রাত ৯টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি পুনরায় ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সে তার ব্যবহৃত একটি টিভি এস আর টি আর এপাচি ১৬০ সিসি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ডিমলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। শনিবার (২ মে) থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন করেন।
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবুল কালাম আজাদ বলেন,অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আইনজীবীদের মতে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং প্রতারণার মাধ্যমে নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।






