ঝালকাঠি বড় বাজারের হাঁস, মুরগী ও কবুতরের মহলের খাজনা আদায় নিয়ে দীর্ঘদিনের সৃষ্ট অস্থিরতা ও মুরগী প্রতি ২ টাকা করে খাজনা আদায়ের জটিলতার অবসান হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় এবং ‘জনবানী’, ‘বরিশাল ডট নিউজ’ ও ‘মনিং পোস্ট’-এ বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তা দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপরই ত্বরিত ব্যবস্থা হিসেবে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হয়েছে। জানা যায়, সাংবাদিক খোকন এবং মোঃ ইমরান মুন্সীসহ স্থানীয় সচেতন সাংবাদিকদের জোরালো ভূমিকার কারণেই এই সুফল পাওয়া সম্ভব হয়েছে।
এই সমস্যা নিরসনে আজ রবিবার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) বিকাল ৪টায় ঝালকাঠি পৌরসভার সভাকক্ষে এক জরুরি ও ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পৌরসভার প্রশাসক মোঃ কাওছার হোসেনের বিশেষ নির্দেশনায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ, ফার্মের মুরগী ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী প্রতিনিধি এবং ইজারাদার পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পৌরসভার প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মিসেস শাহীন সুলতানা এবং সহকারী প্রকৌশলী (পানি সরবরাহ) মোঃ কামরুল হাসান।
দীর্ঘ আলোচনার পর সকল পক্ষের সম্মতিতে সর্বসম্মত কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে তা হলো— ইজারাদার কোনোভাবেই মুরগী প্রতি (পিসপ্রতি) ২ টাকা বা অন্য কোনো হারে খাজনা আদায় করতে পারবে না; পিসপ্রতি খাজনা আদায়ের এই বিতর্কিত প্রথা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরিবর্তে এখন থেকে যানবাহনের ওপর ভিত্তি করে খাজনা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে প্রতি পিকআপ মুরগীর জন্য ২৩০ টাকা, প্রতিটি খাঁচা ভ্যানের জন্য ১৫০ টাকা এবং প্রতিটি অটোর জন্য ৮০ টাকা হারে খাজনা প্রদান করতে হবে।
সভায় স্পষ্টভাবে জানানো হয় যে, এই নতুন খাজনা শুধুমাত্র ফার্মের মুরগী সরবরাহকারীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। কোনো খুচরা দোকানদারকে এই খাজনা দিতে হবে না, ফলে স্থানীয় বাজারে মুরগীর খুচরা মূল্যের ওপর এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন। বৈঠক শেষে ব্যবসায়ীরা সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, পিসপ্রতি ২ টাকা খাজনা আদায়ের যে বাড়তি চাপ ও হয়রানি ছিল, তা নিরসনে পৌরসভার এই সময়োপযোগী ও কার্যকর উদ্যোগ বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে। ইজারাদার পক্ষও পৌরসভার নির্ধারিত নতুন এই নিয়ম মেনে চলতে পূর্ণ সম্মতি প্রদান করেছে।






