সরকারি খাল ভরাট করে পরিবেশ ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগে চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নে এক বালু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অভিযুক্তকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে খাল ভরাটে ব্যবহৃত ড্রেজার মেশিনটি ঘটনাস্থলেই অকেজো করে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি খাল ভরাটের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন চাঁদপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বাপ্পী দত্ত রনি। সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর অভিযুক্ত বালু ব্যবসায়ী মোবারক পাটোয়ারীকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। পরে তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে অপরাধ স্বীকার করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর তফসিলভুক্ত বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মোবারক পাটোয়ারীকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
অভিযানের সময় সরকারি খাল ভরাটে ব্যবহৃত ড্রেজার মেশিনটি অকেজো করে দেওয়া হয়। প্রশাসনের ভাষ্য, পরিবেশ ধ্বংস ও সরকারি জলাশয় দখলের মতো কর্মকাণ্ড যাতে ভবিষ্যতে আর পরিচালিত না হয়, সে লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অভিযানে চাঁদপুর সদর মডেল থানার পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সার্বিক সহযোগিতা করেন।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বাপ্পী দত্ত রনি বলেন, “সরকারি খাল, নদী ও জলাশয় দখল কিংবা ভরাট করে পরিবেশের ক্ষতি এবং জনস্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। পরিবেশ সংরক্ষণ ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের অভিযান নিয়মিত চলবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি মহল সরকারি খাল ভরাট করে পরিবেশের ক্ষতি করে আসছিল। প্রশাসনের এই অভিযান সরকারি জলাশয় রক্ষায় কঠোর অবস্থানের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। পরিবেশবাদীরাও এমন অভিযান অব্যাহত রেখে সরকারি খাল-নদী দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।






