রাজবাড়ী বহরপুর হাটে পেঁয়াজের আড়ত ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট, বিপাকে কৃষকেরা

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর হাটে কাঁচামাল ব্যবসায়ীদের আকস্মিক ধর্মঘটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। মঙ্গলবার (৫ মে ২০২৬) হাটে কোনো আড়ত (আরত) না খোলায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে না পেরে বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরিয়ে নিতে হয়েছে।

যুগের পর যুগ প্রতি মণ পেঁয়াজে তিন-চার কেজি করে বাড়তি দিয়ে আসছেন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির চাষিরা। তাদের বাদ-প্রতিবাদের তোয়াক্কা করেন না পাইকারি ব্যবসায়ীরা। বাধ্য হয়ে এভাবেই পেঁয়াজ বিক্রি করছেন তারা। ধলতা নামে পরিচিত এই প্রথার ক্ষতির শিকার হয়েও মুখ বুজে সহ্য করছেন সব। এবার প্রশাসনের সভায় ব্যবসায়ীরা প্রতি মণ পেঁয়াজে ৪২ কেজি করে দাবি করেছেন। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান তাদের এই আবদার সরাসরি নাকচ করে দেন।

গতকাল সোমবার সকালে বালিয়াকান্দি অডিটোরিয়ামে এক মতবিনিময় সভায় এ ঘটনা ঘটে। পেঁয়াজ, আমসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য জলা-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ওজনে অনিয়ম প্রতিরোধে ব্যবসায়ী ও কৃষকদের নিয়ে সভাটির আয়োজন করা হয়। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ী ছাড়াও জেলা কৃষি বিপণন, উপজেলা কৃষি বিভাগ, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা, হাটবাজারের ইজারাদার ও জনপ্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় কৃষকদের পক্ষে বক্তব্য দেন নবাবপুর ইউনিয়নের বড় হিজলী গ্রামের মো. আব্দুল আউয়াল, বহরপুর ইউনিয়নের তৌহিদুল ইসলাম, সদর ইউনিয়নের মনিরুজ্জামান। তারা অভিযোগ করেন, বালিয়াকান্দির প্রতিটি বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে গেলে ধলতার নামে মণপ্রতি তিন-চার কেজি পেঁয়াজ বেশি দিতে হয় তাদের। এতে পুরো অঞ্চলের পেঁয়াজচাষিরা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছেন। একে তো চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের দাম কম, তার ওপর যদি মণপ্রতি তিন-চার কেজি পেঁয়াজ বেশি দিতে হয়, সেটি অন্যায়। তারা বলেন, এই প্রথার প্রতিবাদ করতে গেলে পেঁয়াজের আড়তদার সিন্ডিকেট নানাভাবে হয়রানি করে চাষিদের। এই অবস্থা থেকে রেহাই পেতে চান।

বালিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার মশিউল আজম

সেখানে বলেন, ব্যবসায়ীরা দাবি করেন মণপ্রতি দুই কেজি বেশি নেন। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে মণপ্রতি চার-পাঁচ কেজি পর্যন্ত পেঁয়াজ বেশি নিয়ে থাকেন ব্যবসায়ীরা। এমন অভিযোগ প্রায়ই তাঁর কাছে নিয়ে আসেন চাষিরা। ধলতার নামে কৃষকের সঙ্গে ঘটা এই প্রতারণা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

এসব অভিযোগের পর ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত পেঁয়াজ নেওয়ার ওয়ার পক্ষে যুক্তি দেন। বালিয়াকান্দি বাজার বণিক সমিতির সভাপতি উসমান গনি মানিক বলেন, জাতীয়ভাবে যেহেতুে ধলতা নেওয়া হয়, সেহেতু তারাও নিতে চান। সারাদেশে ধলতা বন্ধ হলে তারাও বন্ধ করে দেবেন। যদি রাজবাড়ীতে শুধু ধলতা নেওয়া বন্ধ করা হয়, তাহলে তাদের ক্ষতি হবে। কারণ তারাও পেঁয়াজ বিক্রি করতে গিয়ে ধলতা দেন। ওই পেঁয়াজ চাষির কাছ থেকে না নিলে তারা কীভাবে দেবেন। তাই তারা পেঁয়াজে মণপ্রতি দুই কেজি করে ধলতা চান।

ইউএনও চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান সভায় দেওয়া বক্তব্যে ব্যবসায়ীদের দাবির বিরোধিতা করেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, ৪২ নয়, ৪০ কেজিতেই মণ হতে হবে। ধলতার নামে কৃষককে ঠকানো যাবে না। ধলতা নেওয়া বন্ধ করতে হবে। সরকারি নিয়মের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই কারও। কেউ অনিয়ম করলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এহসানুল হক শিপন, কৃষি কর্মকর্তা রতন কুমার ঘোষ, জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা নাঈম আহমেদ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদ আহমেদ আশিক।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন