সারা দেশের বাজারে বাড়ছে কোনা পোড়া ১০ ও ২০ টাকার নোটের সংখ্যা। মাঝে মধ্যে ৫০,১০০ ও ৫০০ টাকার পোড়া নোটও পাওয়া যাচ্ছে। এসব নোট নিতে চাইছেন না ক্রেতা, বিক্রেতা কেউই। ফলে বাজারে খুচরা টাকার সংকট আরও প্রকট হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ভয়ংকর মাদক ইয়াবা ও হেরোইনসহ কয়েক ধরনের মাদক সেবনের সঙ্গে এসব পোড়া নোটের সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে।
দেশের বিভিন্ন এলাকার দোকানদাররা জানান, প্রতিদিন তাদের ক্যাশবাক্সে বেশ কিছু পোড়া নোট জমা হচ্ছে। অধিকাংশই ১০ ও ২০ টাকার নতুন নোট। মাঝেমধ্যে ৫০,১০০ ও ৫০০ টাকার নোটও পাওয়া যায়।
জানা গেছে, ইয়াবা ও হেরোইনসহ কয়েক ধরনের মাদক সেবনের সময় নতুন নোট পাইপ বা নল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ কারণে কম মূল্যমানের ১০ ও ২০ টাকার নোটই বেশি ব্যবহৃত হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, মুকুল জ্যোতি চাকমা বলেন, ইয়াবা ও হেরোইন সেবনে টাকা ব্যবহারের প্রমাণ তারা পেয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, নোটে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন দেওয়া না হলেও মাদক সেবনের সময় আগুনের কাছাকাছি নেওয়ায় নোটের কোনা পুড়ে যায়। এ কারণেই বাজারে কোনা পোড়া নতুন নোটের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এটা শুধু রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ই ঘটাচ্ছে না, মাদকের ভয়াবহ বিস্তারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, মাদক সেবীদের আড্ডায় বড় মূল্যমানের নোট ব্যবহার করাকে আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এ কারণে মাঝেমধ্যে ৫০০ টাকার কোনা পোড়া নোটও বাজারে চলে আসে। যদিও এর সংখ্যা তুলনা মূলক ভাবে কম।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এভাবে নোট ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেগুলো দ্রুত বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নতুন নোট ছাপতে হয়। এতে রাষ্ট্রের ব্যয় বাড়ে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের মুদ্রা ব্যবস্থাপনাও। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজারে অচল নোট বাড়লে তা সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারেন্সি অফিসারের অনুমতিতে ধ্বংস করতে হয়। পরে সমপরিমাণ টাকা ছাপতে হয়। দুই প্রক্রিয়াতেই অনেক অর্থ ব্যয় হয়। ১০ টাকার নোটের মূল্যমান কম হওয়ায় মাদক সেবীদের কাছে এর গুরুত্ব কম হলেও রাষ্ট্রের অনেক টাকা ক্ষতি হয়। কারণ ১০ টাকা ও ১ হাজার টাকার নোট ছাপানোর খরচ প্রায় সমান।



