ঢাকার প্রবেশদ্বারে ময়লার স্তুপ,তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

ঢাকার প্রবেশদ্বার সাভারের আমিনবাজার থেকে বলিয়াপুর চক হতে হেমায়েতপুর পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে দিনের পর দিন মাসকে মাস  জমে আছে  ময়লার স্তুপ।সাভার থেকে ঢাকা আবার সাভার আশার পথে যানবাহনে চলাচল যাত্রীদের   এলাকাবাসীর জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের পাশে ফেলে রাখা গৃহস্থালি ও বাজারের বর্জ্য থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। বিশেষ করে গরম ও বৃষ্টির সময় এ দুর্গন্ধ আরও অসহনীয় হয়ে ওঠে। এতে পথচারী, যাত্রী, দোকানদার এবং স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সেই সঙ্গে শিশুসহ বৃদ্ধরা ভুগছেন নানা জাতীয় মশা ও মাছি বাহিত বিভিন্ন রোগে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় মহাসড়কের দুই পাশেই একটানা ময়লার স্তুপ। বাসা বাড়ি, কলকারখানার বর্জ্য, কোরবানির পশুর চামড়াসহ বিভিন্ন ধরনের পচনশীল ময়লার দুর্গন্ধে দম বন্ধ হওয়ার উপায়। স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। ময়লার দুর্গন্ধে নাক চেপে হাঁটতে হয়। অনেক সময় শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। দ্রুত এসব ময়লা অপসারণ করা জরুরি।”

হেমায়েতপুর এলাকার গৃহিণী শাহিনা আক্তার বলেন, বাড়ির সামনে এমন পরিবেশে বসবাস করা খুবই কষ্টকর। মাছি-মশার উপদ্রব বেড়েছে। শিশুদের নিয়ে সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আব্দুল কাদের জানান, “দুর্গন্ধের কারণে অনেক ক্রেতা দোকানে আসতে চান না। এতে ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে। প্রতিদিন যদি নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ করা হতো, তাহলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না।

শ্যামলী পরিবহনের চালক আল আমিন বলেন, সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ থাকায় পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি অনেক সময় কুকুর ও গবাদিপশু ময়লা টানাটানি করে সড়কে ছড়িয়ে দেয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে।”

পরিবেশ নিয়ে কাজ করা স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক মো. হাসানুজ্জামান বলেন, যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত ডাম্পিং ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অন্যথায় স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়বে।

পথচারী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ঢাকায় প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের এমন চিত্র দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গেও যায় না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি থাকলেও কার্যকর উদ্যোগ খুব একটা চোখে পড়ছে না। নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, অবৈধভাবে ময়লা ফেলা বন্ধে নজরদারি বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা। এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, এ বিষয়ে আমরা সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলামের নিকট কয়েকবার লিখিত অভিযোগ দিলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয়দের আশা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর মহাসড়ক আবারও পরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধমুক্ত পরিবেশ ফিরে পাবে, যা জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং স্বাভাবিক যাতায়াত নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মহাসড়কের পাশে ময়লার স্তুপ কেন এমন প্রশ্নের জবাবে সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মহাসড়কের পাশে কেউ যেন ময়লা ফেলতে না পারে সেজন্য নেটের বেড়া দিয়েছিলাম কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি নেটের বেড়াগুলো তুলে ফেলে ময়লা ফেলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থায়ী ময়লার ডাম্পিং স্টেশন এর জন্য জমি অধিগ্রহণের চেষ্টা চলছে। দ্রুতই এই সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

 

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন