খুলনার দিঘলিয়ায় বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

খুলনার দিঘলিয়ায় বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার বাতিল করে বিলিং মিটারের দাবিতে সচেতন নাগরিক সমাজের উদ্যোগে সোমবার (৬ জুলাই) উপজেলা চৌরাস্তা মোড়ে মানবন্ধন অনুষ্ঠিত । মানবন্ধন শেষে  উপজেলা নিবার্হী অফিসারের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।
 খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা নদী দ্বারা বেষ্টিত একটি দ্বীপ। এ উপজেলার বেশীরভাগ মানুষ কৃষির সাথে সম্পৃক্ত এবং নিম্ন আয়ের হওয়ায়   মানুষের সক্ষমতার বাইরে উচ্চ দামের বিদ্যুৎ পরিমাপক প্রিপেইড মিটার স্থাপন করে  এ অঞ্চলের মানুষের উপর চাপিয়ে দিয়ে চরম অমানবিকতার পরিচয় দিয়েছে ওজোপাডিকো লিঃ।
আমরা দিঘলিয়া উপজেলার সর্বস্তরের বিদ্যুৎ গ্ৰাহক ও সাধারণ জনগণের গভীর উদ্বেগের সাথে জানিয়েছেন সম্প্রতি আমাদের বিদ্যুৎ পরিমাপের প্রিপেইড মিটার আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চরম ভোগান্তি অর্থনৈতিক শোষণ এবং মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের আধুনিকায়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিলাম। মাঠ পর্যায়ে প্রিপেইড মিটার গ্ৰাহকদের কল্যাণের চেয়ে অকল্যাণই বেশি বয়ে আনছে।
মানববন্ধনে বক্তারা উল্লেখ করেন,অস্বচ্ছ ও অতিরিক্ত বিল কাটার অভিযোগ: প্রিপেইড মিটারে টাকা রিচার্জ করার সাথে সাথেই ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া, ভ্যাট এবং অন্যান্য লুকানো চার্জের নামে বিপুল পরিমাণ টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। গ্রাহকদের পক্ষে হিসাব বোঝা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া: ছুটির দিনে বা গভীর রাতে হুট করে ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে করে বৃদ্ধ, অসুস্থ রোগী এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে। ইমার্জেন্সি ব্যালেন্সের যে নিয়ম রয়েছে, তাও অনেক সময় কারিগরি ত্রুটির কারণে কাজ করে না।
এছাড়াও  রিচার্জে ভোগান্তি: সার্ভার ডাউন থাকা বা রিচার্জ পয়েন্ট বন্ধ থাকার কারণে প্রায়ই সময়মতো মিটার রিচার্জ করা যায় না। ডিজিটাল বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সেবার নামে এমন আদিম ভোগান্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়। গ্রাহকদের আস্থার সংকট: এনালগ বা সাধারণ ডিজিটাল মিটারের তুলনায় প্রিপেইড মিটারে সমপরিমাণ ব্যবহারে অনেক বেশি টাকা খরচ হচ্ছে, যা স্পষ্টতই গ্রাহকদের পকেট কাটার শামিল।
 জনভোগান্তির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে, আমাদের এলাকায় স্থাপিত এই বিতর্কিত ও শোষনমূলক প্রিপেইড মিটার পদ্ধতি অনতিবিলম্বে বাতিল করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
একই সাথে গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষায় পূর্বের ন্যায় সহজ ও স্বচ্ছ পোস্টপেইড (মাসিক বিল) পদ্ধতি পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায়, সাধারণ জনগণ তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে এবং এই হয়রানিমূলক মিটার বর্জনে বৃহত্তর শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
স্বারকলিপিতে উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনগণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
একই সাথে গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষায় পূর্বের ন্যায় সহজ ও স্বচ্ছ পোস্টপেইড (মাসিক বিল) পদ্ধতি পুনরায় চালু করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। অন্যথায়, সাধারণ জনগণ তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে এবং এই হয়রানিমূলক মিটার বর্জনে বৃহত্তর শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
স্বারকলিপিতে উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনগণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
উপজেলা নিবার্হী অফিসার সুজন দাশগুপ্ত বলেন, কপি পেয়েছি প্রিপেইড মিটারে জনভোগান্তি হলে বিষয়টি নিয়ে ওজোপাডিকোর সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। উপজেলা বাসীর সুবিধার্থে যা যা করনীয় আমার অবস্থান থেকে সবকিছু করা হবে বলে নিশ্চিত করেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন