স্কুল জীবন থেকে পুরুষে পুরুষে প্রেম। দীর্ঘ ১৭ বছরের সেই প্রেম বৈবাহিক সম্পর্কে রূপ দিতে প্রলোভনে পড়ে লিঙ্গ পরিবর্তন করে ছেলে থেকে মেয়ে হয়েছেন ২৯ বছর বয়সী সাভারের নৃত্যশিল্পী ফিরোজ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কথা রাখেননি প্রেমিক বিপ্লব হোসেন।ফিরোজ পুরুষ থেকে নারী হওয়ার জন্য অস্ত্রোপচার ও হরমোন চিকিৎসা নিতে ভারতে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার সময় প্রেমিক বিপ্লব দেশেই এক মেয়েকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। লিঙ্গান্তর হয়ে বাড়ি ফিরে প্রেমিকের এই বিয়ের খবর পেয়ে ফিরোজের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। এছাড়াও ফিরোজ অভিযোগ করেন, বিপ্লব হোসেন তাকে বিয়ে করার আশ্বাস দেওয়ায় তিনি লিঙ্গ পরিবর্তন করে ছেলে থেকে মেয়ে হয়েছেন। কিন্তু বিপ্লব অন্য মেয়েকে বিয়ে করে তার জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে।এ ছাড়াও তার উপার্জিত প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন এই প্রতারক বিপ্লব হোসেন। সেই টাকা দিয়ে বিপ্লব ও তার পরিবার বাড়ি-গাড়ি করেছে। লিঙ্গান্তর হওয়া ফিরোজ রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের জোত কাদিরপুর গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে বলে জানা যায়। তিনি সাভার উপজেলার শিল্পকলা একাডেমি এবং শিশু একাডেমির নাচের শিক্ষক। এছাড়াও নাচের পুতুল একাডেমি নামের একটি নৃত্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নাচ শেখানোর পাশাপাশি তাদের জীবন মান উন্নয়নে কর্ন সংগঠন নিয়ে কাজ করেন তিনি। অন্য দিকে প্রেমিক বিপ্লব হোসেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকার উজ্জল হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিনি বরিশালে আবুল খায়ের গ্রুপের কয়লা ঘাটে সুপার ভাইজার পদে কর্মরত রয়েছেন। পুরুষ থেকে নারীতে রূপান্তর হওয়া ফিরোজ গণমাধ্যমেকে জানান, বিপ্লব হোসেন এবং তিনি বাঘা উপজেলায় ইসলামী একাডেমিতে একই ক্লাসে লেখাপড়া করেছেন।যখন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তখন প্রেম হয় দু’জনের মধ্যে।প্রতারক বিপ্লবদের পারিবারিক অবস্থা ভালো না হওয়াতে, ফিরোজের বাড়িতেই থাকতেন বিপ্লব।সেখানে স্বামী-স্ত্রীর মতো সম্পর্ক ছিল তাদের মাঝে। এছাড়াও তাদের সম্পর্কের বিষয়টি উভয় পরিবার, এমনকি এলাকাবাসীও জানতো। নৃত্য শিক্ষকতা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচ করে ও অন্যান্যভাবে যা আয় করেছেন তার সবটুকুই তুলে দিয়েছেন প্রতারক বিপ্লবের হাতে ।এবিষয়ে ফিরোজ জানান, এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে ২০১৩ইং সালে তারা দুজন সাভারে আসেন।সেখানে রুম ভাড়া নিয়ে একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন। আকিজ গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানে দুজনে একসঙ্গে চাকরিও করেন। ফিরোজ আরও জানান, তিনি ২০১৪ইং সালে একটি নৃত্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করেন,পাশাপাশি ২০২৪ইং সালের জুন পর্যন্ত বিপ্লবকে নিয়ে এক ছাদের নিচে স্বামী-স্ত্রীর মতই বসবাস করেছেন তারা।এর মধ্যেই আবুল খায়ের গ্রুপে চাকরি হয় বিপ্লবের এবং নতুন কর্মস্থল যশোর চলে যায়।এরপর থেকে প্রতি সপ্তাহে সাক্ষাত হতো তাদের।ফিরোজ বলেন, আমাদের সম্পর্ককে দাম্পত্যে রূপ দিতে চেয়েছিল বিপ্লব। এজন্য আমাকে অস্ত্রোপচার করে মেয়ে হতে বলেছে। আমি তার পরামর্শে ও বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ২০২৪ইং সালের জুলাই মাসে ভারতে যাই। সেখানে অস্ত্রোপচার করে ছেলে থেকে মেয়েতে রূপান্তর হই। তখনও আমাদের দু’জনের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। ভারতে যাওয়ার আগে দু’জন শ্রীমঙ্গল ঘুরতেও গিয়েছি। তাছাড়া ভারতে যাওয়ার সময় বেনাপোল সীমান্ত চেকপোস্ট পর্যন্ত আমাকে এগিয়ে দিয়ে এসেছে বিপ্লব। এদিকে ভুক্তভোগী ফিরোজ জানান তিনি ভারতে টানা একবছর চিকিৎসা নিয়ে ২০২৫ ইং সালে দেশে ফেরেন।তাছাড়া তিনি ভারতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় যশোর থেকে বরিশালে বদলি হন বিপ্লব। ভুক্তভোগী ফিরোজ নারীতে রূপান্তর হয়ে দেশে ফেরার পর বরিশালে যান। সেখানে একজন নারী হিসেবে তাকে নতুন করে প্রেম নিবেদন করে বিপ্লব। পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে জানতে পারেন, বিপ্লব অন্য মেয়েকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেছে।ফিরোজ অভিযোগ করেন,গত ১৭ বছরে প্রায় ৫০ লাখ টাকা শুধু প্রতারণা করেই আত্মসাত করেছে বিপ্লব। সেই টাকা দিয়ে তার বাবা গ্রামে বাড়ি করেছে। তার সঙ্গে ৩০ লাখ টাকা লেনদের দালিলিক প্রমাণপত্রও আছে। এবিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালী থানার এস আই সাঈদ মুঠোফোনে কল করে জানতে চাইলে তিনি বলেন ,অভিযুক্ত ভুক্তভোগীকে ত্রিশ লাখ টাকার দেওয়ার কথা ছিলো, তিনি দেননি বিষয়টি নিয়ে আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি। যার একটি কল রেকর্ড সংরক্ষিত, এদিকে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী ফিরোজ কোন প্রকার আইনি সহয়তা চাইলে তাকে দেওয়া সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।







