ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে ভুয়া দাতা (বিক্রেতা) সাজিয়ে দলিল রেজিস্ট্রির চেষ্টাকালে এক নারীকে শনাক্ত করে দলিল জব্দ করা হয়েছে। একই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দলিল লেখকের লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নাহিদ জাহান মুনা।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নলছিটি দলিল লেখক সমিতির সদস্য রাজিব খলিফা এবং সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকল নবীস প্রান্ত উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নের রাজাবাড়িয়া গ্রামের রাবেয়া বেগম নামে এক নারীকে নিয়ে একটি দলিল রেজিস্ট্রেশনের জন্য সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে হাজির হন। দলিল নিবন্ধনের সময় ওই নারীর আচরণে সন্দেহ হলে সাব-রেজিস্ট্রার নাহিদ জাহান মুনা তার জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করেন।
যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, রাবেয়া বেগম নামে ওই নারী প্রকৃতপক্ষে জেসমিন নামে অপর এক ব্যক্তির পরিচয়ে দাতা সেজে দলিল সম্পাদনের জন্য উপস্থিত হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের অফিসে বসিয়ে রেখে নলছিটি থানায় খবর দেওয়া হয় এবং দলিলটি জব্দ করা হয়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ সময় সাময়িকভাবে দলিল নিবন্ধন কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হয়।
অভিযুক্ত দলিল লেখক রাজিব খলিফা বলেন, “আমি জানতাম না ওই নারী অন্যের পরিচয়ে দলিল দিতে এসেছেন। তিনি বোরকা পরিহিত ছিলেন। ওই দলিলে ১০ থেকে ১৫ জন দাতা ছিলেন। তিনি যে জালিয়াতির আশ্রয় নেবেন, তা বুঝতে পারিনি।”
উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নাহিদ জাহান মুনা বলেন, “আমার অফিসের আশপাশে একটি জালিয়াত চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া দলিল সম্পাদনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দলিল নিবন্ধন করি। সংশ্লিষ্ট দলিল লেখকের সহযোগিতায় ওই নারী ভুয়া দাতা সেজে দলিল সম্পাদনের চেষ্টা করেছিলেন। আমরা তাকে শনাক্ত করে দলিল জব্দ করেছি। দলিল লেখকের লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং ভুয়া দাতা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”
ঘটনার পর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিরাপত্তা ও দলিল যাচাই প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।






