খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় জ্বালানি তেল নিয়ে চলছে তেলেসমাতী । তীব্র জ্বালানি তেলের সংকটকে পুঁজি করে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার আশায় সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে দিনদুপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে । উপজেলার কোথাও মিলছে না ডিজেল বা পেট্রোল, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে কৃষক, মোটরসাইকেল চালক, নসিমন- করিমন , ট্রলি ও ট্রলার চালকদের দুর্ভোগ এখন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। খুচরা পর্যায়ে মূল্য লাগামহীন প্রতি লিটার পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা লিটার , ডিজেল ও লিটার প্রতি নেয়া হচ্ছে নির্ধারিত মূল্য থেকে ৫০ থেকে ৭০ টাকা বেশি সাধারণ ক্রেতাদের ভোগান্তির শেষ নেই কিন্তু বাজার তদারকিতে প্রশাসনের কার্যকারী কোন উদ্যোগ নেই।
উপজেলার বহু কৃষক ডিজেলচালিত সেচযন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ডিজেলের অভাবে তারা সময়মতো ফসলি জমিতে পানি দিতে পারছেন না। এতে ইরি মৌসুমে ফসল হানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকদের অনেকেই দোকানে দোকানে ঘুরেও ডিজেল পাচ্ছেন না, যদিও কোথাও পাওয়া যায় তার মূল্য লাগামহীন এ কারনে কৃষকের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে, দিঘলিয়ায়
উপজেলার কয়েক হাজার মোটরসাইকেল এবং শতাধিক নসিমন, করিমন ও ট্রলি চলাচল করে। জ্বালানি তেলের অভাবে এসব যানবাহন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ফলে শ্রমজীবী মানুষ তাদের আয়-রোজগার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। যদিওবা খুচরা পর্যায়ে কোথাও মিলছে তা-ও আবার অধিক মূল্যে পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা লিটার , ডিজেল ও লিটার প্রতি নেয়া হচ্ছে নির্ধারিত মূল্য থেকে ৫০ থেকে ৭০ টাকা বেশি খুচরা ব্যবসায়ীরা যানবাহন চালকদের জিম্মি করে অধিক মুনাফা অর্জন করছে। জ্বালানি তেলের সংকটকে পুঁজি করে অধিক মুনাফার আশায় সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি তেলের ডিপো থেকে বর্তমানে শুধুমাত্র পেট্রোল পাম্পগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু দিঘলিয়া উপজেলায় কোনো পেট্রোল পাম্প না থাকায় সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। আগে খুচরা ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন উৎস থেকে তেল সংগ্রহ করে বিক্রি করলেও এখন সেই সরবরাহ কমে গেছে। ফলে যানবাহন চালক ও কৃষকরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে আর এ সুযোগে খুচরা ব্যবসায়ীরা খেয়াল খুশি মতো জ্বালানি তেলের দাম হাঁকিয়েছে।
উল্লেখ্য, খুলনা শহরের নিকটবর্তী হওয়ায় দিঘলিয়ায় ছোট-বড় শিল্প-কারখানা ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন এই অঞ্চলে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের ব্যাপক চলাচল রয়েছে। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে এসব যানবাহনও কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে, সরকারিভাবে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে জানানো হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। খুলনা শহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দেখা যাচ্ছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না চালকরা। পাম্প মালিকদের দাবি, তারা ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম তেল পাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সংকটের পেছনে কোনো অসাধু সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকতে পারে। যদিও সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তবে দিঘলিয়ায় এর কার্যকর প্রতিফলন এখনো দেখা যাচ্ছে না।
ভুক্তভোগীরা জানান, “পেট্রোল পাম্প না থাকায় আমরা এতদিন খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে তেল কিনে কাজ চালাতাম। এখন সেই পথও বন্ধ হয়ে আসছে। এতে আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছি।”
এ অবস্থায় দিঘলিয়ার সাধারণ মানুষ দ্রুত এই সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকারী পদক্ষেপ কামনা করেছেন সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি খুচরা পর্যায়ে বাজার তদারকির মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এরফলে দিঘলিয়ার জ্বালানি সংকট নিরসন এবং চলমান দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।







