নরসিংদীর রায়পুরায় আগামী ৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘রায়পুরা ম্যারাথন-২০২৬’। উপজেলা প্রশাসন ও রায়পুরা রানার্স কমিউনিটির যৌথ আয়োজনে দিনব্যাপী এ ক্রীড়া উৎসবে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় এক হাজার দৌড়বিদ অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এ আয়োজনকে ঘিরে ইতোমধ্যে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী, তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। ম্যারাথনের পাশাপাশি রায়পুরার ঐতিহ্যবাহী মেঘনা নদীতে শিগগিরই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নৌকা এনে বড় পরিসরে নৌকা বাইচ আয়োজনেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার রায়পুরা উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল।
ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, “এবারের রায়পুরা ম্যারাথন সারা দেশের মধ্যে একটি বড় আয়োজন হতে যাচ্ছে। প্রতিবছর এ আয়োজনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের আয়োজন করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, রায়পুরার মানুষের বিনোদন ও ক্রীড়া চর্চাকে সমৃদ্ধ করতে মেঘনা নদীতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নৌকা এনে বড় পরিসরে নৌকা বাইচের আয়োজন করা হবে।
বাড়ছে অংশগ্রহণ, বাড়ছে জনপ্রিয়তা
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে মাত্র ৪০০ জন রানার নিয়ে ‘রায়পুরা হাফ ম্যারাথন’-এর যাত্রা শুরু হয়। প্রথম আয়োজনেই স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন এলাকার দৌড়বিদদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে প্রায় ৭০০ জন এবং ২০২৫ সালে ৮০০ জনের বেশি রানার অংশ নেন। প্রতিবছর অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় রায়পুরা ম্যারাথন ইতোমধ্যে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে পরিচিত একটি ইভেন্টে পরিণত হয়েছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এবার প্রায় এক হাজার দেশি-বিদেশি রানারের অংশগ্রহণে ম্যারাথনটি আরও বড় পরিসর পাবে।
চার ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতা
এবারের ম্যারাথনে চারটি ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এগুলো হলো—
– ৪২ কিলোমিটার ফুল ম্যারাথন
– ২৫ কিলোমিটার রেস
– ১০ কিলোমিটার রেস
– ১ কিলোমিটার ফ্যামিলি রেস
ফ্যামিলি রেসে শিশু ও পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। ফলে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসচেতনতা ও পারিবারিক আনন্দেরও সুযোগ থাকছে এ আয়োজনে।
এতিম শিশুদের জন্য ম্যারাথনের মানবিক উদ্যোগ
রায়পুরা ম্যারাথন-২০২৬-এর অন্যতম বিশেষ দিক হচ্ছে এর সামাজিক উদ্যোগ। ম্যারাথনের চ্যারিটি পার্টনার হিসেবে রয়েছে ‘অরফান লাভ ফাউন্ডেশন’।
আয়োজকেরা জানান, অংশগ্রহণকারীদের রেজিস্ট্রেশন ফি-এর একটি অংশ এতিম শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় করা হবে। এ উদ্যোগে সংহতি জানিয়ে অনেক রানার নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ দিয়েও ম্যারাথনে অংশ নিচ্ছেন।
রায়পুরা রানার্স কমিউনিটির রেস ডিরেক্টর সবুজ শিকদার বলেন, প্রতিবছর রায়পুরা ম্যারাথনের জনপ্রিয়তা ও অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি বিদেশি রানারদের অংশগ্রহণ এ আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ করছে।
তিনি বলেন, “এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে রায়পুরা ম্যারাথন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি আইকনিক ক্রীড়া ইভেন্টে পরিণত হবে।”
তরুণদের ক্রীড়ামুখী করার বার্তা
ইউএনও মো. মাসুদ রানা বলেন, দেশি-বিদেশি দৌড়বিদ ও তরুণ ক্রীড়ামোদীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে রায়পুরা ম্যারাথন এখন শুধু একটি দৌড় প্রতিযোগিতা নয়; এটি স্বাস্থ্যসচেতনতা, তরুণদের ক্রীড়ামুখী করা এবং সামাজিক ঐক্যের একটি বড় উৎসবে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সুস্থ জীবনযাপন ও খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়াবে। পাশাপাশি রায়পুরার ইতিবাচক পরিচিতি দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়বে।
ম্যারাথনকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রশাসন ও আয়োজক কমিটি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিরাপত্তা, ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনমুন পাল, রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবর রহমান, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, স্থানীয় সাংবাদিক এবং রায়পুরা রানার্স কমিউনিটির আয়োজক কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, ৯ অক্টোবরের রায়পুরা ম্যারাথন এবং পরবর্তী সময়ে মেঘনায় বড় পরিসরের নৌকা বাইচের মধ্য দিয়ে রায়পুরায় ক্রীড়া, বিনোদন ও সামাজিক সম্প্রীতির নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হবে।




