চাঁদপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ৮নং বাগাদী ইউনিয়নের উত্তর নানুপুর গ্রামে দিন দিন উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে মাদক ও জুয়ার বিস্তার। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে রাতভর বসছে জুয়ার আসর, চলছে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা ও সেবন। এর প্রভাব হিসেবে এলাকায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে চুরির ঘটনা। ফলে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের কয়েকটি নির্জন স্থান, বাগান, নদীতীরবর্তী এলাকা এবং কিছু নির্দিষ্ট আড্ডাস্থলে সন্ধ্যার পর থেকেই জুয়াড়ি ও মাদকসেবীদের আনাগোনা শুরু হয়। গভীর রাত পর্যন্ত চলে তাস ও ডাব্বু খেলা। অভিযোগ রয়েছে, এসব আসরে লাখ লাখ টাকার লেনদেন হয়। একই সঙ্গে ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য বিক্রি ও সেবন করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, মাদক ও জুয়ার আসরকে কেন্দ্র করে বহিরাগত অপরাধীদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় গ্রামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যার পর প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক ও জুয়ার অর্থের জোগান দিতে গিয়ে চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। প্রায়ই কোনো না কোনো বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটছে। নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, মোটর, গবাদিপশু, কৃষি সরঞ্জাম এমনকি রান্নাঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও চুরির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না।
ভুক্তভোগী বাসিন্দা বিল্লাল মিয়া বলেন, “ঘর থেকে মোবাইল, টাকা-পয়সা, গবাদিপশু, মোটর—কিছুই নিরাপদ নয়। প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটছে। মাদক ও জুয়ার টাকা জোগাড় করতেই একটি সংঘবদ্ধ চক্র এসব অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে বলে আমরা মনে করি।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, মাঝে মধ্যে ছোটখাটো চোর ধরা পড়লেও এসব অপরাধের নেপথ্যে থাকা মূল হোতারা অধরাই থেকে যাচ্ছে। ফলে অপরাধ দমনের পরিবর্তে তা আরও বিস্তার লাভ করছে।
এ বিষয়ে এলাকার সাবেক এক জনপ্রতিনিধি বলেন, “অবিলম্বে মাদক ও জুয়ার আসর বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে গ্রামের তরুণ সমাজ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে।”
উত্তর নানুপুর গ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে, যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করতে এবং চুরির উপদ্রব বন্ধে নিয়মিত পুলিশি টহল, মাদকবিরোধী অভিযান এবং জুয়ার আসর উচ্ছেদে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।





