ঝিনাইদহ শহরের ‘শামীমা ক্লিনিকে’ চিকিৎসকের চরম অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় আসমা হক (২৫) নামের এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পরিবারের দাবি, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত নজরদারি থাকলে আসমাকে বাঁচানো সম্ভব হতো।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ এপ্রিল প্রসবব্যথা নিয়ে আসমা হককে ঝিনাইদহ শহরের শামীমা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ওই দিনই তার সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়। অপারেশনের পর নবজাতক সুস্থ থাকলেও আসমার শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হতে থাকে। অভিযোগ উঠেছে, রোগীর শারীরিক জটিলতা থাকা সত্ত্বেও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে তাকে ছাড়পত্র (ডিসচার্জ) দিয়ে দেয়।
স্বজনরা বুধবার দুপুরে আসমাকে বাড়িতে নিয়ে গেলে তিনি আরও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় রাতেই তাকে পুনরায় শামীমা ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়।
আসমার চাচা আমির হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভর্তির পর থেকে আমরা চিকিৎসককে পাশে পাইনি। যার সিজার করার কথা ছিল, তিনি অপারেশন করেননি। উপরন্তু অসুস্থ অবস্থায় আমার ভাতিজিকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়বার যখন ক্লিনিকে আনলাম, তখনও নার্স বা চিকিৎসকরা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককেও ডাকা হয়নি। এটা স্রেফ হত্যাকাণ্ড।”
অভিযোগের বিষয়ে ক্লিনিক মালিক ডা. শামীমা বলেন, “হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এখানে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল না।”
অন্যদিকে, ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে এখনও অবগত নন। তবে খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তদারকির অভাবে ঝিনাইদহের বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে একের পর এক প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্লিনিক মালিকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জেলার সাধারণ মানুষ।





