ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় বৈদ্যুতিক খুঁটিতে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাসুদ করিম বাবু নামে এক ইলেক্ট্রিশিয়ানের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার পৌর শহরের বালুয়াপাড়া মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মাসুদ করিম বাবু উপজেলার পূর্ব ভালুকা এলাকার মৃত আব্দুস সালামের বড় ছেলে।
এদিকে, দুর্ঘটনার সময় সহকর্মী মাসুদকে খুঁটি থেকে পড়ে যেতে দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বিদ্যুৎকর্মী মো. খায়রুল মিয়া। পরে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাকে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে বৈদ্যুতিক লাইনে কাজ করার সময় হঠাৎ বিদ্যুতায়িত হয়ে খুঁটি থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন মাসুদ করিম বাবু। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. লামিয়া ইসলাম জ্যুতি তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আনুমানিক ২টায় তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গৌরীপুর পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী লিটন মজুমদার বলেন, “আমাদের অচিন্তপুর ফিডার ও খেলারমাঠ ফিডার বন্ধ ছিল। তবে ১১ হাজার ভোল্টের কোনো একটি লাইনে সম্ভবত লিকেজের কারণে বিদ্যুতের ফিডব্যাক হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
নিহত মাসুদ করিম বাবু গৌরীপুর পিডিবির নিয়োগপ্রাপ্ত ইলেক্ট্রিশিয়ান না হওয়া সত্ত্বেও কেন তাকে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে কাজ করতে দেওয়া হয়েছিল—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “নিহত মাসুদ করিম বাবু আমাদের স্থায়ী বা নিয়োগপ্রাপ্ত ইলেক্ট্রিশিয়ান ছিলেন না। তবে আমাদের নিজস্ব লাইনম্যান না থাকলে প্রয়োজনের সময় তারা লাইনে কাজ করেন।”
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। নিহতের মরদেহ বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ফিডার বন্ধ থাকার পরও কীভাবে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলো, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এবং বিদ্যুৎ অফিস ও গৌরীপুর থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করছে এলাকার স্থানীয় লোকজন।





