নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের পুরুষোত্তমপুর মসজিদ কমিটির সাবেক সেক্রেটারি আবদুল হান্নান (৫০) গত শুক্রবার বিকেলে আছরের নামাজের আগে তার ৩/৪ জন সহযোগী নিয়ে মসজিদের ইমামের কক্ষে ঢুকে তাকে মারধর, আসবাবপত্র ভাংচুর ও তার দুইটি মোবাইল ফোন ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে মাওলানা সফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে আবদুল হান্নান সহ অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে চাটখিল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে জানা যায়, মসজিদের হিসাব নিকাশ সঠিকভাবে না দেওয়ায় এবং মসজিদের টাকা আত্মসাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছুদিন আগে তাকে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এই বিষয়ে তিনি ইমামের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ইমামকে হেনস্তা করার পায়তারা করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার আসরের নামাজের পূর্বে অভিযুক্ত আব্দুল হান্নান ও তার সহযোগীরা ইমামের কক্ষে ঢুকে অতর্কিত ভাবে হামলা চালিয়ে মাওলানা সাইফুল ইসলাম কে মারধর করে। তারা মসজিদের টেবিল ফ্যান দিয়ে ইমামের মাথায় ও শরীরে এলোপাথাড়ি আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এসময় তার শোর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আব্দুল হান্নান ঐ মসজিদের সাবেক সেক্রেটারি ছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে মসজিদের বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। ইমামের কাছে সেই হিসাব ও নথিপত্র গচ্ছিত থাকায় তার ওপর এই আক্রোশ থেকে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। হামলার সময় ইমামের দুটি মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এই ব্যাপারে অভিযুক্ত আবদুল হান্নানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে লাইন কেটে দেন।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবদুল মোন্নাফ এর সাথে গতকাল রোববার দুপুরে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।






