যশোর জেলায় গ্রাম আদালত কার্যক্রম প্রকল্প শুরুর পর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মামলা দায়ের হয় ৬ হাজার ৩১৫। নিষ্পত্তি হয়েছে ৬ হাজার ১৯৫ মামলা। ১০ কোটি ৭৭ লাখ ৮৫ হাজার ৬৪০ টাকা ক্ষতিপূরণ ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে দেয়া হয়েছে। কালেক্টরেট সভাকক্ষ অমিত্রাক্ষরে বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত গ্রাম আদালত কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে প্রচার প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনায় স্থানীয় অংশীজনদের সাথে সমন্বয় সভায় এতথ্য জানানো হয়। সভায় জানানো হয়-দায়েরকৃত ৬ হাজার ৩১৫ মামলার মধ্যে সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদে দায়ের হয় ৫ হাজার ৫৫৪ মামলা, জেলা আদালত থেকে পাঠানো হয় ৬৩৭ মামলা। অপেক্ষমান মামলা ছিল ১২৪টি। দেওয়ানি মামলা ৩ হাজার ২৭৩ টি ও ফৌজদারি ২ হাজার ৯১৮টি। দায়েরকৃত মামলার মধ্যে ৪ হাজার ২৩ আবেদনকারী পুরুষ এবং ২ হাজার ১৬৮ নারী । গ্রাম আদালতে গড়ে একটি মামলা নিস্পত্তি হতে ১০ দিন সময় লাগে। দাতা সংস্থা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও ইউএনডিপি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে স্থানীয় সরকার, পল্লীউন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়িত বাংলাদেশে গ্রাম সক্রিয়করণ তৃতীয় পর্যায় প্রকল্পের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতকে সক্রিয় করার লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা। সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক রফিকুল হাসান। তিনি বলেন- গ্রাম আদালত সক্রিয় হলে স্থানীয় বিরোধ স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তি হবে, উচ্চ আদালতের মামলার জট কমে আসবে। গ্রাম আদালত সম্পর্কে এখনো অনেক মানুষ জানে না। মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রচারণা বৃদ্ধির জন্যই আজকের এই সমন্বয় সভা। বক্তব্য রাখেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম , জেলা যুব উন্নয়ণ অধিদপ্তর উপপরিচালক খোন্দকার জাকির হোসেন, জেলা তথ্য কর্মকর্তা এলিন সাঈদ উর রহমান, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান, দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি নুর ইসলাম, শিশু নিলয় ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি রোজিনা আক্তার , বাঁচতে শেখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা দীপক কুমার রায় প্রমুখ। সভায় পরিচালনা করেন বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য়পর্যায়) প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার অ্যাডভোকেট মহিতোষ কুমার রায় । সভায় উপস্থিত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা গ্রাম আদালত সম্পর্কে বিভিন্ন পরামর্শমূলক বক্তব্য রাখেন। এর মধ্যে আদালতের আইন জীবীদের নিয়ে যদি একটি সভা করা , আদালতের গুরুত্ব সম্পর্কে বুঝানো, সচেতনতা বৃদ্ধি , জেলা ও দায়রা জজ এর মাধ্যমে জেলার সকল আদালতে গ্রাম আদালতের বির্চার্য বিষয়ে একটি তালিকা প্রদর্শন , প্রতি ইউনিয়ন পরিষদে প্রচারণার জন্য একটি করে বিলবোর্ড স্থাপন, আইন সহায়তা কর্মসূচির সুবিধা ভোগীদের গ্রাম আদালত সম্পর্কে বলা, প্রচারণামুলক উপকরণ সেবা ভোগীদের মাঝে বিতরণ, প্রতিনিধিদের নিয়ে আমাদের অনেক প্রশিক্ষণ আয়োজন হয় সেখানে গ্রাম আদালত বিষয়ে সেসন পরিচালনা, বিভিন্ন কর্মসূচিতে গ্রাম আদালত বিষয়ে আলোচনা প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের বিচারের জন্য আলাদা কক্ষ ও এজলাস থাকা, চেয়ারম্যানরা যাতে ভীতিহীন ভাবে গ্রাম আদালত পরিচালনা করতে পারে সেজন্য পুলিশের সহযোগিতা থাকা দরকার বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করেন।







