চাঁদপুরে বিভিন্ন উৎসব ও আয়োজনকে ঘিরে রাতভর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নৃত্য পরিবেশন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। বিশেষ করে সাম্প্রতিক কিছু আয়োজনকে কেন্দ্র করে শহরের একাংশের বাসিন্দা অভিযোগ করছেন, আধুনিকতার নামে কিছু অনুষ্ঠানে শালীনতার সীমা লঙ্ঘিত হচ্ছে, যা পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সমালোচকদের দাবি, অতীতে চাঁদপুরের সাংস্কৃতিক আয়োজন ছিল পরিবারকেন্দ্রিক ও শৃঙ্খলাপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে কিছু অনুষ্ঠানে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দ, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা এবং অশালীন নৃত্য পরিবেশনের অভিযোগ উঠছে। তাদের মতে, এসব আয়োজন নতুন প্রজন্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং শহরের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
অনেকে অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক বা তরুণ-তরুণীদের গভীর রাত পর্যন্ত বাইরে অবস্থান এবং অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে অংশগ্রহণের বিষয়ে পরিবারকে সচেতন থাকতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় পরিবার, আয়োজক ও প্রশাসনের সমন্বিত ভূমিকার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে আয়োজকদের বক্তব্য, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মানুষের বিনোদনের একটি অংশ এবং অধিকাংশ আয়োজনেই শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়। তারা মনে করেন, বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা বা অভিযোগের কারণে সব অনুষ্ঠানকে একইভাবে মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সংস্কৃতি অবশ্যই বিকশিত হবে, তবে তা যেন স্থানীয় সমাজের মূল্যবোধ, পারিবারিক পরিবেশ ও জনশালীনতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে। তারা প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, জনসমাগমপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলোতে প্রয়োজনীয় তদারকি নিশ্চিত করে কোনো ধরনের অশালীনতা বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতামত প্রকাশ অব্যাহত রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, চাঁদপুরের ঐতিহ্য ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।





