মির্জাগঞ্জ ভূমি অফিসে বিতর্কিত কানুনগো ফজলুর রহমান: সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির অভিযোগ

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এল/এ) শাখা থেকে দুর্নীতির অভিযোগে বদলি হওয়া কানুনগো মোঃ ফজলুর রহমানকে ঘিরে এবার মির্জাগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসেও ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এল/এ শাখায় কর্মরত থাকাকালীন পায়রা বন্দর এবং ইপিজেড (EPZ) প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের ফাইল আটকে ১০% থেকে ১৫% পর্যন্ত সরাসরি পার্সেন্টেজ বা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে কানুনগো ফজলুর রহমান সহো বেশ কয়েকজন সার্ভেয়ারের সমন্বয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছে। বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে ভুয়া ও জাল দলিলেও অধিগ্রহণের টাকা ছাড় করার মতো গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।দুর্নীতি ও অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মুখে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের আদেশে তাঁকে পটুয়াখালী ডিসি অফিসের এল/এ শাখা থেকে সরিয়ে মির্জাগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে কানুনগো হিসেবে বদলি করা হলেও তাঁর পরোক্ষ লবিং ও প্রভাব বিস্তার থামেনি।
অভিযোগ উঠেছে, মির্জাগঞ্জে যোগদানের পরও ফজলুর রহমান অনৈতিক উপায়ে জেলা প্রশাসনের এল/এ শাখার গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও সিদ্ধান্ত নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মির্জাগঞ্জের একাধিক সেবাগ্রহীতা জানান, বিতর্কিত এই কর্মকর্তার কারণে সাধারণ মানুষ ভূমি সংক্রান্ত সেবা নিতে এসে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এই দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অবিলম্বে কঠোর বিভাগীয় তদন্ত এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নাগরিকরা।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন