বান্দরবানের লামায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ (সুমন গং কর্তৃক সরকারি কলেজের ভূমি দখল চেষ্টা)

গত ১৭ই মার্চ প্রকাশিত দৈনিক বসুন্ধরা ও ১৮ ই মাৰ্চ প্রকাশিত দৈনিক সংবাদ দিগন্ত, গণবার্তা, অনলাইন পোর্টাল জাগরণ নিউজ 24 পত্রিকায় প্রকাশিত “লামায় কলেজ শিক্ষক ও সহযোগীর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও জমি দখলের অভিযোগ” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংবাদটি মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। সত্য ও প্রকৃত ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ভুল তথ্য দিয়ে এই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। আমি প্রকাশিত মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। উপরোক্ত মিথ্যা সংবাদে প্রকাশ হয়েছে যে,
(১) ভুক্তভোগী মোরশেদা বেগম মুন্নির অভিযোগ, জমিটি কলেজের নামে দখল নেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অভিযুক্তরা একজনকে কেয়ারটেকার দেখাতে একটি নিয়োগপত্র তৈরি করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একটি নিয়োগপত্র প্রস্তুত করা হয় এবং সেটি দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজেকে কলেজের বৈধ কেয়ারটেকার হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন।
আমার বক্তব্য: ৩০৫ নম্বর গজালিয়া মৌজার ১৭০ নম্বর হোল্ডিং এ ৩.৫০ একর জায়গা সরকারি কলেজের দখলে রয়েছে। এই জায়গার মালিক কিভাবে আমি হতে পারি তা আমার বোধগম্য নয়। সুমন গং কর্তৃক জনগণের সম্পত্তি (সরকারি কলেজের গণসম্পত্তি) দখল করতে আসলে কলেজ অধ্যক্ষ মহোদয় আইনানুগ প্রতিরোধ করার জন্য বলেন। অধ্যক্ষের নির্দেশে ওসি, লামাকে লিখিত অভিযোগ করলে তিনি এস আই শাকিলের অধীনে পুলিশফোর্স মোতায়েন করে সুমনগংকে দখল থেকে নিবৃত করেন। যদিও ততক্ষণে একটি ঘরের প্রায় 80 পার্সেন্ট নির্মাণ করে ফেলেন। কেহ সরকারি সম্পত্তি দখল করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষের আইনানূগ পক্ষ অবলম্বনের সুযোগ রয়েছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে “ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩” এর আলোকে কেয়ারটেকার কর্তৃক একটি ফৌজদারি মামলা নং ৫ (১৬-৩-২৬) দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া আরেক মামলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৫ জারি করে বিবাদীর সকল কার্যক্রম বন্ধ করেন। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সাথে থাকা কি আমার অপরাধ হয়েছে? কেয়ারটেকারের নিয়োগপত্র জাল-জালিয়াতি বা শূদ্ধ তা দেখার দায়িত্ব আদালতের, আপনার নয়।
(২) তিনি (আামি) একটি ঝিরির স্বাভাবিক গতিপথ বন্ধ করে তিনতলা ভবন নির্মাণ করেছেন
আমার বক্তব্য: আমার বাড়ির জায়গার পাশ দিয়ে পৌরসভা কর্তৃক পৌর মেয়রের নির্দেশে নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত গাইডওয়াল দিয়ে ঝিরির দক্ষিণ পূর্বাংশে ঝিরি বাধাই করা আছে। ঝিরি এবং রাস্তার মাঝে পাকা জমাবন্দিমূলে/খতিয়ানমূলে ২৮৮ হোল্ডিং এর 791 দাগ হতে ট্রেস ম্যাপ দ্বারা নির্ধারিত ৫ শতাংশ (প্রায়) প্রথম শ্রেণীর জমিতে পৌরসভার অনুমোদনক্রমে আমার বাড়ি নির্মিত । ভবনের হালনাগাদ মিউনিসিপাল ট্যাক্স পরিশোধিত, এবং ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ণে প্রদর্শিত হলেও অভিযোগকারীনি আমার সামাজিক সম্মানহানির জন্য অদালিলিক উপায়ে উঠে পড়ে লেগেছেন।
(৩) ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, স্থানীয় এক কলেজ শিক্ষক ও তার সহযোগী পরিকল্পিতভাবে ওই জমির ওপর মালিকানা দাবি করে দখল নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
আমার বক্তব্য: আমি একজন সরকারি কর্মকর্তা, সরকার কর্তৃক আরোপিত দায়িত্বের বাইরে আমি কারো জায়গা দখল করতে গিয়েছি এমন ডকুমেন্টারি ইভিডেন্স কেউ দেখাতে পারবে না। পরিকল্পিতভাবে কারো জমির ওপর মালিকানা দাবি করে দখল নেওয়ার চেষ্টা ও আমার নেই।  অধ্যক্ষের নির্দেশে কলেজের সরকারি জনসম্পত্তি  রক্ষার্থে কমিটির সাথে সমন্বিত কাজ করেছি।
(৪) এ লক্ষ্যে তারা জমির সীমানায় থাকা গাছ কেটে বিক্রি করা, অভিযুক্ত শিক্ষক প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করেন।
আমার বক্তব্য: প্রকৃত অর্থে আমি অভিযোগকারীনীকে চিনি না। আর তার গাছ কাটা তো ডাহা মিথ্যা কথা। ভয় ভিত্তি প্রদর্শন করে কি স্বার্থ হাসিল করেছি তা অভিযোগকারীনি প্রমাণসহ বলেননি।
(৫) তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জমি সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার কথা বলে অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে গিয়ে তিনি হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং সরকারি মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আমার বক্তব্য: আমি প্রথমেই বলেছি এই অভিযোগকারীনিকে আমি চিনি না । সুতরাং এই মহিলাকে আমার বাড়িতে ডাকার প্রশ্ন আসে না এবং আমি কোন বিচারক নই যে তাকে ফায়সালা করে দিব।
(৬) সুমন গং কর্তৃক জিডি নম্বর ১০১১ (২৩-১২-২০২৫) লামা থানায় কেয়ারটেকারকে অভিযুক্ত করা ..
আমার বক্তব্য: এ এস আই মিজানুর রহমান, লামা থানা কর্তৃক প্রদত্ত রিপোর্টে সুমন গং কর্তৃক মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
(৭) অভিযোগকারীনি কর্তৃক আমার বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ …
আমার বক্তব্য: আমি ইসলাম ধর্ম প্র্যাকটিস করি। এবং আমার কাছে ডোপ টেস্ট রিপোর্ট রয়েছে যার রিপোর্ট নেগেটিভ।
প্রতিবাদকারী: মুহাম্মদ সামশুল আলম, শিক্ষক, অ্যাকাউন্টিং বিভাগ, সরকারি মাতামুহুরী কলেজ, লামা, বান্দরবান।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন