ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (আমুয়া) রোগীর স্বজনদের কাছে অর্থ দাবি, হয়রানি এবং অপ্রীতিকর ঘটনার প্রেক্ষিতে আলোচিত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সুকান্তকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করা হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ এ ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে আমুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজনদের কাছে অভিযুক্ত চিকিৎসক সুকান্ত ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। রোগীর পরিবার ওই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে চিকিৎসক ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হাসপাতাল চত্বরে উভয় পক্ষের মধ্যে দস্তাদস্তির ঘটনা ঘটে। ঘটনার আকস্মিকতায় হাসপাতালে উপস্থিত অন্যান্য সাধারণ রোগী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতির বেগতিক দেখে অভিযুক্ত সুকান্ত দ্রুত হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসক সুকান্তের বিরুদ্ধে রোগী হয়রানির বিষয়টি দীর্ঘদিনের। গুরুতর কোনো সমস্যা না থাকলেও তিনি রোগীদের প্রায়ই বলেন, “এখানে চিকিৎসা হবে না, বরিশাল নিয়ে যান।” এরপর রোগীদের বরিশালে রেফার করা হয়। সেখানে নির্দিষ্ট কিছু ক্লিনিকে বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়, যা থেকে ওই চিকিৎসক কমিশন বা বিশেষ আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক সুকান্তের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে কাঁঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার তাপস কুমার তালুকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
“হাসপাতালের সুষ্ঠু চিকিৎসার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে তদন্ত সাপেক্ষে শোকজ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন যাতে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালে এসে এমন হয়রানির শিকার না হন।







