সাভার ও আশুলিয়া অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। দিন-রাতের অধিকাংশ সময় জুড়ে লোডশেডিংয়ের কারণে ,ব্যবসায়ী শিক্ষার্থীরা ছোট শিশু এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে গরমের এই সময়ে বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে অসহনীয় করে তুলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং কখন আসবে তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই।
সাভার পৌরসভার ৬ং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন সন্ধ্যা হতে রাত ১২- ১টা বার বিদ্যুৎ যায়। অনেক সময় ঘণ্টা থেকে ধের ঘণ্টা পর্যন্ত থাকে না। গরমে ঘরে থাকা যায় না,বয়স্ক হতে ছোট বাচ্চারা কষ্ট পায়।
একই ধরনের অভিযোগ করেন সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকার গৃহিণী শারমিন জাহান তিনি বলেন, “রান্না করতে গিয়ে বিদ্যুৎ চলে গেলে খুব সমস্যা হয়। ফ্রিজের খাবারও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”
শিক্ষার্থীরাও এই পরিস্থিতিতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী রিপা আফরা বলেন, “পরীক্ষার সময় পড়াশোনা করতে পারছি না। রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে মোবাইলের আলোয় পড়তে হয়, যা গরমে খুব কষ্টকর।” অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানের পড়াশোনার ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার বাসিন্দা নাজমুল হোসেন বলেন :সারাদিন বিদ্যুৎ যায় আর আসে আসে সন্ধার পরে কয়েক ঘন্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। এই ভাবে বিদ্যুতের অবস্থা থাকলে আমাদের ব্যবসায় গুটিয়ে পথে নামা ছাড়া উপায় নাই।
শুধু বাসাবাড়িই নয়, শিল্পকারখানাও বিদ্যুৎ সংকটে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের একটি গার্মেন্টস কারখানার সুপারভাইজার কামাল হোসেন জানান, “ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
জেনারেটর চালাতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে, যা আমাদের জন্য বড় চাপ।” ছোট ব্যবসায়ীরাও একই সমস্যায় পড়েছেন। স্থানীয় এক দোকানদার হাসান মিয়া বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকলে দোকানে ক্রেতা আসে না। ফ্রিজের ঠান্ডা পানীয় গরম হয়ে যায়, বিক্রি কমে গেছে।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় এবং লাইনে কারিগরি সমস্যার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেড়েছে। আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছি, তবে কিছুটা সময় লাগবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সাভারের এক জনপ্রতিনিধি বলেন, “মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা জরুরি। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামোর উন্নয়ন না হওয়ায় এই ধরনের সংকট বারবার দেখা দিচ্ছে। তারা টেকসই সমাধানের জন্য উৎপাদন বৃদ্ধি, সঞ্চালন লাইনের উন্নয়ন এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
সব মিলিয়ে, সাভার ও আশুলিয়ার বিদ্যুৎ সংকট একটি বড় জনদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।






