সাভারের জাবিতে নারী শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ, প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি

সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগটি উঠে আসে ক্যাম্পাসের ভেতরে রাতের বেলায় এক নারী শিক্ষার্থীকে টেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর, যার প্রতিবাদে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা মশাল মিছিল বের করেন।
প্রতিবাদে নারী শিক্ষার্থীরা টারজান পয়েন্ট থেকে মিছিল শুরু করে ক্যাম্পাসের একাধিক হল প্রদক্ষিণ করেন এবং পরে প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। একই সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরাও আলাদা মিছিল নিয়ে পরে তাদের সঙ্গে যুক্ত হন। শিক্ষার্থীদের একাংশ প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করে কার্যালয় ঘেরাও করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে ছিল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলমের পদত্যাগ, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় কুইক রেসপন্স টিম, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, সিসিটিভি নজরদারি এবং বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় মামলা করেছে বলেও একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
নারী শিক্ষার্থীরা বিশেষ ‘স্বাধীনতা দিবস প্রীতিভোজ’ বয়কটের ডাকও দেন এবং সেই রাতে সাধারণ খাবার গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত স্বাভাবিক পরিবেশে ফেরা যাবে না, এমন বার্তাই তাদের আন্দোলনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সাভারের মতো বড় শিক্ষাকেন্দ্রে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা শুধু ক্যাম্পাস প্রশাসনের নয়, পুরো ব্যবস্থার প্রশ্ন। রাতের বেলা আলোকস্বল্পতা, বহিরাগত নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা, টহল ব্যবস্থার ঘাটতি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার অভাব, এসব মিলেই এমন সংকট তৈরি করে।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো দেখাচ্ছে, তারা কেবল একটি ঘটনার বিচার চাইছে না; বরং ক্যাম্পাসকে সত্যিকারের নিরাপদ জায়গা হিসেবে দেখতে চায়। সাভার-জাহাঙ্গীরনগর এলাকায় এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যর্থতা আশপাশের শিক্ষার্থী, কর্মী ও নারীদের ওপরও প্রভাব ফেলে।
সাভারের যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী নিরাপত্তা, পর্যাপ্ত আলো, সিসিটিভি, টহল এবং বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ এখন বিলাসিতা নয়, জরুরি প্রয়োজন। অভিযোগ উঠলে দ্রুত তদন্ত, দৃশ্যমান ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানোই হওয়া উচিত প্রথম পদক্ষেপ।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন