বিয়ের প্রলোভন দিয়ে যুবতীকে আটক রেখে ধর্ষণের অভিযোগ

নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড হাওলাদার বাড়ির আব্দুল আজিজ বাবুর ছেলে মেজবাউল ইসলাম (২৬) এর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে ধর্ষণের শিকার যুবতী ফারিয়া আক্তার (২১) চাটখিল থানায় অভিযোগ করেছেন। বর্তমানে মেয়েটি চাটখিল থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
ধর্ষণের শিকার ফারিয়ার সাথে কথা বলে জানা যায়, ফেসবুকে পরিচয়ের মাধ্যমে মেজবাউল ইসলাম গত দেড় বছর ধরে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। সম্প্রতি পারিবারিক ভাবে ফারিয়ার বিয়ের আলোচনা হলে ফারিয়া বিষয়টি মেজবাউলকে জানায়। মেজবাউল ফারিয়াকে গত ৬ এপ্রিল ঢাকায় নিয়ে যায়। ঢাকায় নিয়ে সে তাকে একটি আবাসিক হোটেলে উঠায়। ঢাকায় নিয়ে বিয়ে করার কথা থাকলেও মেজবাউল তাকে বিয়ে না করে ফারিয়ার মতের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক হোটেল কক্ষে দুদিন আটকে রেখে ফারিয়াকে ধর্ষণ করে।
মেজবাউলের পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে মেজবাউলের বাবা আব্দুল আজিজ বাবু হোটেলে এসে প্রতারণার মাধ্যমে তার ছেলেকে সেখান থেকে নিয়ে যায়। মেজবাউল যাওয়ার সময় ফারিয়ার কাছে থাকা নগদ বিশ হাজার টাকা ও একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায়। পরে ফারিয়া প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে মেজবাউলের বাসায় গেলে মেজবাউলের বাবা আব্দুল আজিজ বাবু তাকে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়ে সময় ক্ষেপণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে সে ফারিয়ার মোবাইল নাম্বার ব্লক করে দেয় এবং তাকে নিয়ে ফেসবুকে উল্টাপাল্টা স্ট্যাটাস দেয়। পরবর্তীতে ফারিয়া তাদের সাথে কোন রকম যোগাযোগ করতে না পেরে আজ মঙ্গলবার সকালে মেজবাউলের গ্রামের বাড়ি চাটখিলে এসে চাটখিল থানা পুলিশের কাছে বিষয়টি জানায়। থানা পুলিশ ফারিয়ার বাবা মোঃ ফেরদৌস প্রধানকে বিষয়টি অবহিত করেন এবং তাকে চাটখিল থানায় আসতে বলেন। ফারিয়া বর্তমানে চাটখিল থানা পুলিশের হেফাজতে আছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এই ব্যাপারে অভিযুক্ত মেজবাউল ও মেজবাউলের বাবা আব্দুল আজিজ বাবুর সঙ্গে তাদের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করেও ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এই বিষয়ে চাটখিল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মোন্নাফের সাথে কথা বললে তিনি জানান, মেয়েটির বাবাকে খবর দেয়া হয়েছে, তিনি আসলে আইনগত ব্যবস্থার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন