নীলফামারীতে চীন মৈত্রী হাসপাতাল প্রকল্পের পরিদর্শনে স্বাস্থ্য সচিব

 নীলফামারীতে চীন সরকারের অনুদান বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদিত ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা’ প্রকল্পের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পাঠানো স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে একটি প্রতিনিধি দল। শুক্রবার(১০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় নীলফামারীর দারোয়ানি টেক্সটাইল মিল এলাকায়  হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে বেলা ১২টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য সচিব বলেন, নীলফামারীতে বিমানবন্দর আছে। এটি আন্তর্জাতিক রূপান্তরের পরিকল্পনা চলমান রয়েছে। এখানে ট্রেন, রেল যোগাযোগ আছে। যা আরো উন্নত হতে পারে। এখানে সড়ক যোগাযোগে মহাসড়ক আছে। সার্বিক যোগাযোগ কাঠামোর সুফলটা আমরা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। এছাড়াও এখান থেকে সার্ক অঞ্চলের যোগাযোগটা আমার মনে হয় সহজ হবে। সেই ক্ষেত্রে এই এলাকাটা চিকিৎসার হাব হবে এবং সেন্টার অব এক্সিলেন্স হবে। সেই বিবেচনায়ও আমরা এই স্থানকে সুপারিশ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, এই এলাকায় ১৬টি জেলায় প্রায় আড়াই কোটি জনগণ আছে। আমরা কিছু কিছু সার্ভে করেছি। এখানে ক্যান্সার, হৃদরোগ, কিডনি রোগ এই সমস্ত রোগগুলো আমরা দেখছি, ডেটা নিচ্ছি। গত পাঁচ বছর, দুই বছর এই সমস্ত ডেটা নিচ্ছি যে এখানে কি ধরনের রোগীরা ঢাকা যায় কিংবা রাজশাহী ডিভিশনাল শহরে চলে যায় কিংবা বাইরে চলে যায়। আমরা লক্ষ্য করেছি খুলনা অঞ্চল থেকেই অনেক বড় একটা সার্কেলের রোগীরা বাইরে চলে যায়। তাই সবকিছু বিবেচনায় আমরা এই স্থানটি নির্ধারণ করেছি।’
তিনি বলেন, এখানে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট যে হাসপাতাল হবে। তার মধ্যে ৫০০ বেড হবে সাধারণ জেনারেল হাসপাতাল এবং ৫০০ বেড হবে বিশেষায়িত হাসপাতাল। আমাদের যে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট গুলো গণপূর্ত, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, স্থাপত্য অধিদপ্তর এবং এনএপিডি এই চারটা কারিগরি প্রতিষ্ঠান কারিগরি দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করে আমাদের একটা থিমেটিক নকশা তৈরি করে দেবেন।
সে  অনুসারে গঠিত কমিটির সুপারিশমালাসহ প্রতিবেদন আগামী ১৬ তারিখের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে সচিব বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি মহোদয়সহ আমরা সবাই মিলে সদর হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছি। আমরা এই চিকিৎসা সেবা আরো কীভাবে উন্নততর করা যায়। এই অঞ্চলের মানুষ কীভাবে এই হাসপাতাল থেকে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পায়, সেই ব্যবস্থা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আমরা চেষ্টা করব আরও এটাকে ভালো করার জন্য।
নীলফামারী মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের বিষয়ে সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমাদের প্রাথমিক একটা বিবেচনা হল মেডিকেল কলেজটি চীনের উপহারের হাসপাতালটির কাছাকাছি যদি প্রতিষ্ঠা হয় তাহলে হয়তো আমাদের ছাত্র ছাত্রীরা এখান থেকে আরও সমৃদ্ধ হতে পারবে। উন্নত চিকিৎসা ও টেকনোলজি ব্যবহার করে তারা জ্ঞান অর্জন করে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা ভালো লেখাপড়ার সুবিধা পাবে। সেই ক্ষেত্রে আমরা মেডিকেল কলেজ টাও ওখানে হলে আমাদের এই অঞ্চলের ছাত্র ছাত্রীরা বা যারা শিক্ষার জন্য আসবেন তারা উপকৃত হবে। আমাদের মেডিকেল কলেজের ডিপিপি প্রক্রিয়াধীন আছে। আমরা বিশ্বাস করি ইনশাল্লাহ বিষয়টি দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।
এসময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মো. আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সাইদুল ইসলাম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাকিউজ্জামান সহ উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন