আনোয়ারায় জিরা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় জিরা চাষে সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকেরা। অনুকূল পরিবেশ পাওয়ায় কৃষকেরাও আগ্রহী হচ্ছেন জিরা চাষে। যার কারণে প্রথম বছর এই উপজেলায় মাত্র ১জন কৃষক জিরা চাষ করলেও এবার প্রয়োজনীয় এই মসলার চাষ করেছেন স্থানীয় ২০জন কৃষক। কৃষকদের আগ্রহ এবং অনুকূল পরিবেশের কারণে আনোয়ারা জিরা চাষাবাদের সম্ভাবনা দেখছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিসার শামীম আহমেদ সরকার।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্র জানা যায়, এবার উপজেলার ১হেক্টর জমিতে জিরা চাষাবাদ হয়েছে। ২০জন চাষী এসব জিরা চাষাবাদের সাথে জড়িত। তারা চিকন জিরা এবং মিষ্টি জিরা দুই ধরনের জিরাই চাষ করেছেন। গত নভেম্বর-ডিসেম্বরে এসব জিরা চাষ করা হয়েছে, এপ্রিলের মধ্যে সব ফলন উঠে যাবে।
সরেজমিনে উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের রূদুরা ও ডুমুরিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একটি বিলে দুই এলাকার স্থানীয় কৃষকেরা জিরা চাষাবাদ করেছেন। ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। কিছুদিন পর থেকে উঠানো যাবে ফলন। ফলন ভালো হওয়ায় খরচ পুষিয়ে লাভের আশা করছেন জিরা চাষিরা।
জিরা চাষী আবু তৈয়ব জানান, গতবছর অল্প পরিমাণে জিরা চাষ করেছি। ফলন খুব ভালো হয়েছিলো। তাই এবছর অনেককেই জিরা চাষের পরামর্শ দিয়েছি আমি নিজেও ২০গন্ডা মত জমিতে জিরা চাষ করেছি। এবছরও ফলন ভালো হয়েছে। জমি থেকে পানির দূরত্ব বেশি হওয়ায় সময় মত পানি দেওয়া সম্ভব হয়নি। না হয় ফলন আরও ভালো হতো।
আব্দুল মান্নান নামের আরেক জিরা চাষী বলেন, আবু তৈয়বের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রথম বারের মত সাড়ে ১৩গন্ডা জমিতে জিরা চাষ করেছি। এসব চাষে সাড়ে ১৩হাজার টাকা মত খরচ হয়েছে। আশা করছি খরচ পুষিয়ে লাভবান হবো।
চাতরী ব্লকের কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দীপক বাবু বলেন, রূদুরা ও ডুমুরিয়া এলাকাটি জিরা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। পানির কিছু সমস্যা রয়েছে। এই সমস্যাটা দূর করা গেল এখানে খুব ভালো জিরা চাষ হবে। সার্বক্ষনিক তদারকির মাধ্যমে এসব চাষাবাদ সম্পন করা হচ্ছে।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার শামীম আহমেদ সরকার বলেন, জিরা একটি অতি মূল্যবান এবং চ্যালেঞ্জিং মসলা জাতীয় ফসল। গত বছর থেকে জিরার চাষাবাদ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কৃষি অফিস কাজ করে যাচ্ছে। দিনদিন এই উপজেলায় জিরা আবাদ বাড়ছে। আমাদের দায়িত্বরত উপসহকারী তদারকি এবং পরামর্শের মাধ্যমে এই চাষাবাদের ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন