বান্দরবানের লামা এবং আলীকদম উপজেলায় অনলাইন সংবাদমাধ্যম নেত্র নিউজে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে স্থানীয় ইক্বরা তাহসীনুল কুরআন মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ম্রো সম্প্রদায়ের শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ দিয়ে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ আনা হয়।
স্থানীয়দের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ওই প্রতিবেদনকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন। মানববন্ধনে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন নওমুসলিমও উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মাদ্রাসার পরিচালক ডা. মো. ইউসুফ আলী পাহাড়ি ম্রো শিশুদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করছেন এবং তাদের নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে। এছাড়া আস-আদ একাডেমি, চৈক্ষ্যং ও এগারো কিলো মডেল একাডেমি মাদ্রাসাসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ তোলা হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা। মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বলেন, তারা অভিভাবকের সম্মতিতেই পড়াশোনা করতে আসেন এবং তাদের ওপর কোনো ধরনের ধর্মান্তরের চাপ প্রয়োগ করা হয়নি।
এগারো কিলো মুসলিম পাড়া জামে মসজিদের ইমাম ইব্রাহিম ত্রিপুরা বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন ধর্মে ধর্মান্তরের ঘটনা ঘটে, তবে নির্দিষ্টভাবে একটি প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে এমন অভিযোগ তোলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে হচ্ছে।”
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক ম্রো শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা নিজের ইচ্ছায় এবং পরিবারের অনুমতি নিয়ে এখানে পড়তে আসি। কখনো আমাদের ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হয়নি।”
অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে বিভ্রান্তিকর তথ্য সংশোধন বা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এমন সংবেদনশীল বিষয়ে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করার দাবি জানান তারা।







