নীলফামারীর ডিমলায় সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালে ওজনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। উপকারভোগীদের জনপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও, প্রতি বস্তায় এক থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত চাল কম দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। উপজেলার শালাহাটি ও নাউতারা বাজারের দুই ডিলারের বিরুদ্ধে এই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় কার্ডধারী উপকারভোগীরা জানান, গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) চাল বিতরণের সময় এই অনিয়ম তাদের নজরে আসে। শালাহাটি বাজারের ডিলার মেসার্স অলিউর রহমান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মোঃ শামসুল হক এবং নাউতারা বাজারের ডিলার মোঃ কামরুজ্জামানের পয়েন্ট থেকে চাল উত্তোলন করতে গিয়ে উপকারভোগীরা দেখেন, নির্ধারিত ৩০ কেজির বদলে তারা ২৮ থেকে ২৯ কেজি চাল পাচ্ছেন। এতে প্রতিবারই একজন কার্ডধারী এক থেকে দেড় কেজি চাল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালিত এই কর্মসূচির নিয়ম অনুযায়ী, উপকারভোগীদের ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল দেওয়ার কথা। উল্লেখ্য, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় মূলত ভূমিহীন, প্রান্তিক ও স্বল্প আয়ের কৃষক, দিনমজুর, দরিদ্র ও অসহায় মানুষ, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং নারীপ্রধান দরিদ্র পরিবারের মতো নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীকে সুবিধাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।সে হিসেবে একজন কার্ডধারীর ৩০ কেজি চালের মূল্য দাঁড়ায় ৪৫০ টাকা। কিন্তু নির্ধারিত মূল্য পুরোপুরি পরিশোধ করার পরও সঠিক ওজনে চাল না পাওয়ায় হতদরিদ্র এই মানুষগুলোর মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা অবিলম্বে সঠিক ওজনে চাল বিতরণ এবং অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মেসার্স অলিউর রহমান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মোঃ শামসুল হক এবং নাউতারা বাজারের ডিলার মোঃ কামরুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি। ফলে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ গোলাম মোস্তফা জানান, তদন্ত করে চাল কম দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইমরানুজ্জামান। তিনি বলেন, ডিলারদের চাল কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো ডিলার এমন অনিয়ম করে থাকেন, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষী ডিলারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সরকারি চাল নির্ধারিত ওজনে বিতরণের বিষয়টি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।





