আত্রাইয়ে টিকার পর শিশুর মৃত্যু স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় নিয়মিত টিকাদানের পর ৩ মাস বয়সী এক কন্যা শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এক স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে চরম অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। মৃত শিশু মহিমা আক্তার চৈতি আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ ইউনিয়নের ব্রজপুর গ্রামের মোহাম্মদ চাঁন মিয়ার মেয়ে।
মহিমার পরিবারের দাবি, মেয়াদোত্তীর্ণ টিকা প্রয়োগ এবং শিশুটি অসুস্থ হওয়ার পর বারবার আকুতি জানানো সত্ত্বেও স্বাস্থ্যকর্মী কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই করুণ মৃত্যু ঘটেছে। তবে অভিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মী মোছা: সেজ্জাতুন নেছা অবহেলার বিষয়টি অস্বীকার করে পেশাগত ব্যস্ততাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন।
মৃত মহিমার পিতা মো: চান মিয়া ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করে জানান, গত রবিবার সকালে তিনি তার সুস্থ সন্তানকে নিয়ে নিকটস্থ টিকা কেন্দ্রে যান। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার ঘণ্টাখানেক পর থেকেই শিশুটি অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে এবং গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। চান মিয়া বলেন, বাচ্চা অসুস্থ হওয়ার পর আমি সাথে সাথে স্বাস্থ্যকর্মী সেজ্জাতুন নেছাকে ফোন করি। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করে বলেন অপেক্ষা করুন ঠিক হয়ে যাবে। টিকা দিলে সব বাচ্চারই এমন হয়। কিন্তু সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও বাচ্চাটি কোনো খাবার খায়নি এবং প্রচণ্ড জ্বরে ছটফট করছিল। আমি বারবার ফোন দিলেও উনি হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ না দিয়ে বিষয়টি গুরুত্বহীনভাবে এড়িয়ে যান।
অবস্থার অবনতি হলে সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শিশুটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশু মহিমাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যকর্মী মোছা: সেজ্জাতুন নেছা স্বীকার করেন যে, তিনি বাচ্চার বাবার ফোন পেয়েছিলেন। তবে নিজের দায় অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি ভেবেছিলাম সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে জ্বর এসেছে। সোমবার সকালে হাম-রুবেলা টিকার ক্যাম্পেইন থাকায় আমরা অত্যন্ত ব্যস্ত ছিলাম। সোমবার বিকেলে যখন আমাকে আবার ফোন দেওয়া হয়, তখন আমি একটি পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি নেওয়ার সিরিয়ালে ছিলাম। ব্যস্ততার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার সঠিক পরামর্শ দেওয়া বা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ খাইরুল আলম জানান, সাধারণত টিকা দেওয়ার পর রোগী যদি অস্বাভাবিক আচরণ করে অথবা জ্বর ও বমির মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে দ্রুত পার্শ্ববর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আমি নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাদের অভিযোগ শুনেছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীর যদি কোনো গাফিলতি থাকে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আত্রাইয়ের স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় জ্বালানি নেওয়া বা ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে একটি শিশুর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা নৈতিক ও পেশাগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন