তপ্ত রোদে বা কনকনে শীতে ঝিনাইদহ শহীদ মিনার চত্বরে যে ছেলেটি এক কাপ কফি হাতে মানুষের ক্লান্তি দূর করতো, আজ তার জীবনের মোড় ঘুরে গেল। অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী জাবেদের লড়াকু জীবনকে সম্মান জানাতে এবং তাকে স্বাবলম্বী করতে এক অনন্য উদ্যোগ নিয়েছে ‘নবগঙ্গা রক্ষা পরিষদ’। আজ ঝিনাইদহ শহরের নবগঙ্গা নদীর তীরে দৃষ্টিনন্দন পৌর ইকো পার্কে জাবেদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হলো আধুনিক ভ্রাম্যমাণ দোকান ‘সৌহার্দ্য ফুড শপ’।
শহীদ মিনারের সেই কফি বিক্রেতা জাবেদ এখন আর কেবল একজন হকার নন, তিনি এখন একটি ক্ষুদ্র ব্যবসার মালিক। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে নবগঙ্গা রক্ষা পরিষদের কে.এম সাইফুজ্জামান শিমুল আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “জাবেদ আমাদের সমাজের লড়াকু তরুণদের প্রতীক। একজন শিক্ষার্থীর প্রতি এটা আমাদের করুণা নয়, বরং আমাদের ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা। আমরা চেয়েছি তার পড়াশোনার পাশাপাশি উপার্জনের পথটা যেন সম্মানজনক হয়।”
পৌর ইকো পার্কের এই প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহের বিশিষ্ট নাগরিক ও গুণীজনদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কানিজ তন্বীর সাবলীল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে জাবেদকে অনুপ্রাণিত করে, প্রফেসর সুষেন্দু কুমার ভৌমিক ও প্রফেসর ড. হাসান অরিন্দম।
ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটন।বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব আব্দুস সবুর, কবি এমদাদ শুভ্র, এবং কবি ও শিক্ষক শাহনেওয়াজ মিঠু।বৃক্ষপ্রেমী ব্যাংক কর্মকর্তা অসিত বিশ্বাস ও পূর্বাঞ্চল সমাজকল্যাণ পরিষদের জনাব ইদ্রীস।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহের সংবাদের প্রতিনিধি স্বপন, এবং তরুণ সংগঠক অন্তর, লিমন, পরাগ ও তারেক মাহমুদ জয়।
এই মানবিক উদ্যোগটি বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য উপস্থিত সকলে বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান কানাডা প্রবাসী এম. এ তারিক এবং নবগঙ্গা রক্ষা পরিষদকে। মূলত তাদের আর্থিক ও মানসিক সহযোগিতাতেই জাবেদের জীবনের এই নতুন অধ্যায় শুরু হলো।বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সমাজের বিত্তবানরা এভাবে এগিয়ে এলে আর কোনো শিক্ষার্থীকে অভাবের তাড়নায় স্বপ্ন বিসর্জন দিতে হবে না। জাবেদের ‘সৌহার্দ্য ফুড শপ’ এখন কেবল কফি বিক্রির দোকান নয়, এটি ঝিনাইদহের মানুষের ভালোবাসা ও সংহতির এক জীবন্ত স্মারক।







