সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কিত ভূমিকা: এক শিক্ষক, বহু প্রশ্ন

উপজেলা পর্যায়ে “শ্রেষ্ঠ শিক্ষক” নির্বাচিত হওয়া একজন মানুষের কাছ থেকে সমাজ যে দায়িত্বশীলতা প্রত্যাশা করে, বাস্তবতা কি তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার সৃজনী বিদ্যানিকেতন পবিপ্রবি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক সুজন মর্গানকে ঘিরে উঠছে ঠিক এমনই কিছু গুরুতর প্রশ্ন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শিক্ষাক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়ার পরও সুজন মর্গান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে সরকারের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে আসছেন—যা সরাসরি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের ৬ লেন প্রকল্পের আওতায় একটি ভাস্কর্য অপসারণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার ফেসবুক পোস্ট ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই পোস্টে ঘটনার পূর্ণ প্রেক্ষাপট গোপন রেখে আংশিক ও বিকৃত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে জনমনে অযাচিত ক্ষোভ ও অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।
সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, সুজন মর্গানের পোস্টগুলো কেবল মতামত প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সেগুলোতে সুস্পষ্টভাবে রাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব উসকে দেওয়ার উপাদান রয়েছে। একজন শিক্ষক হয়েও তিনি যে ভাষা, ছবি ও বর্ণনা ব্যবহার করছেন, তা শিক্ষকের নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মত দিয়েছেন অনেকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন শিক্ষক শুধু শ্রেণিকক্ষেই নন, অনলাইনেও একজন “রোল মডেল”। কিন্তু যদি সেই শিক্ষক নিজেই যাচাই-বাছাই ছাড়া গুজব ছড়ান, তবে তা শিক্ষার্থী ও সমাজের জন্য ভয়াবহ বার্তা বহন করে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্য প্রচার স্পষ্টভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—একই ব্যক্তি একদিকে সরকারি স্বীকৃতি ভোগ করছেন, অন্যদিকে সেই সরকারের বিরুদ্ধেই অনলাইনে ধারাবাহিকভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। এতে প্রশ্ন উঠেছে, তার “শ্রেষ্ঠ শিক্ষক” নির্বাচনের মানদণ্ড ও যাচাই প্রক্রিয়া নিয়েও।
স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের দাবি, বিষয়টি আর উপেক্ষার সুযোগ নেই। তারা দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটরিং এবং প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত শিক্ষক সুজন মর্গানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা ও বিলম্ব পরিস্থিতিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এখন প্রশ্ন একটাই—রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আড়ালে থেকে কেউ কি অনলাইনে গুজব ছড়িয়ে পার পেয়ে যেতে পারে? নাকি আইনের শাসন সবার জন্যই সমান হবে?

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন