চার বছর আগে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার কুমার নদের পাড়ের একটি বাঁশঝাড়ের নিচ থেকে উদ্ধার হয়েছিল ১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী রাজিয়া খাতুনের গলাকাটা মরদেহ। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বহুল আলোচিত এই ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি হাসান শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (২০ জুলাই) মাগুরার জেলা ও দায়রা জজ মো. মিজানুর রহমানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৭ মার্চ দুপুরে শ্রীপুর উপজেলার শ্রীখোল গ্রামের বাসিন্দা মিকিজ শেখের মেয়ে ও ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী রাজিয়া খাতুন বাড়ি থেকে কুমার নদের পাড়ে রসুনক্ষেত দেখতে যায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
পরদিন দুপুরে স্থানীয় এক ব্যক্তি সুজয় কুন্ডুর পেঁপে বাগানের পাশের বাঁশঝাড়ের নিচে একটি মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গলায় ওড়না পেঁচানো এবং গলাকাটা অবস্থায় রাজিয়ার মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
ঘটনার পর রাজিয়ার বাবা মিকিজ শেখ শ্রীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আজ এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনির হোসেন বাবলু জানান, তারা এই রায়ে সন্তুষ্ট নন এবং উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাজিয়ার মা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “২০২২ সাল থেকে আমি এই মামলার বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম। আজ মৃত্যুদণ্ডের রায় পেয়ে আমি অনেক খুশি। সরকারের কাছে আমার একটাই আবেদন, যেন দ্রুত এই রায় কার্যকর করা হয়।”
চার বছর আগের এই মর্মান্তিক ঘটনার রায়ে রাজিয়ার পরিবার ন্যায়বিচারের একটি অধ্যায় দেখতে পেলেও, একমাত্র প্রিয় কন্যাকে হারানোর বেদনা আজও তাদের প্রতিটি মুহূর্তে তাড়া করে ফেরে।







