বেরোবিতে ভিসি-রেজিস্ট্রার দ্বন্দ্ব ঘিরে উত্তাল ক্যাম্পাস, শিবির-ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

বেরোবিতে ভিসি-রেজিস্ট্রার দ্বন্দ্ব ঘিরে উত্তাল ক্যাম্পাস, শিবির-ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরে (বেরোবি) উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক অনিয়ম, ছাত্র সংসদ নির্বাচন, নিয়োগ দুর্নীতি ও শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) আলাদা আলাদা সংবাদ সম্মেলন করে দুই সংগঠন নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে।
রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে সংবাদ সম্মেলন করে শিবির সমর্থিত শিক্ষার্থীরা উপাচার্য প্রফেসর ড. শওকাত আলীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ তোলে। তাদের দাবি, উপাচার্য একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার উপেক্ষা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চললেও উপাচার্য কৌশলগতভাবে সময় ক্ষেপণ করে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ছাত্র সংসদ নির্বাচন এড়িয়ে গেছেন। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও অনৈতিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চতুর্থ গ্রেডে পদোন্নতির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসব বিষয়ে দুদকের মামলা ও তদন্ত চলমান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া গুচ্ছ পদ্ধতির বাইরে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে বেরোবি থেকে যে আয় হয়, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডে যুক্ত করা হয় না বলেও অভিযোগ করেন তারা। শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে শিবির সমর্থিত শিক্ষার্থীরা বলেন, অতীত প্রশাসনের অনিয়ম ও অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করা বর্তমান উপাচার্যের প্রধান দায়িত্ব ছিল, কিন্তু একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন হলেও দৃশ্যমান কোনো ফল পাওয়া যায়নি। এসব অনিয়ম আড়াল করতেই উপাচার্য একটি বিশেষ মহলের ওপর নির্ভর করছেন বলে দাবি করে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
অন্যদিকে সকাল সাড়ে ১১টায় পৃথক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্যের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বেরোবি শাখা ছাত্রদল রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলে। ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তুহিন রানা বলেন, অবৈধ রেজিস্ট্রারের কারণে ক্যাম্পাসে অরাজকতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং উপাচার্যের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, রেজিস্ট্রার অবৈধ নিয়োগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছেন এবং একটি গুপ্ত গোষ্ঠীর সহায়তায় উসকানিমূলক ও দলীয় প্রচারণায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আবু সাঈদ হত্যা মামলার বিষয়ে তুহিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দায়ের করা মামলায় সহযোগিতার পরিবর্তে রেজিস্ট্রারের অসহযোগিতার কারণে আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।
ছাত্রদল আরও অভিযোগ করে, রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে একটি গুপ্ত গোষ্ঠী ও তাদের ছাত্রী সংগঠনের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন রেজিস্ট্রার এবং যেকোনো তদন্ত কমিটিতে মনমতো প্রতিবেদন দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভারসাম্য নষ্ট করছেন। ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তারা দাবি করে, রেজিস্ট্রারের গাফিলতির কারণেই এখনো ভোটার তালিকা সংশোধন হয়নি।
ছাত্রদল আরও দাবি করেন, উপাচার্য ড. শওকাত আলীর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন দৃশ্যমান। আবু সাঈদ গেট, রিসার্চ ইনস্টিটিউটসহ একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। রেজিস্ট্রার ও একটি গুপ্ত গোষ্ঠীর অসহযোগিতার কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
ভিসি-রেজিস্ট্রার ইস্যুতে দুই ছাত্র সংগঠনের বিপরীতমুখী অবস্থান ও প্রকাশ্য অভিযোগে বেরোবির সার্বিক প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
রাকিবুল হাসান মুন্না 

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন