বরগুনার তালতলীতে ফুটবল খেলা চলাকালে বলের আঘাতে গরু দৌড়ে পালানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক শিশু খেলোয়াড়কে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
নিহত শিশু হযরত আলী (১৪) তালতলী উপজেলার হরিণখোলা গ্রামের মৃত ইদ্রিস খলিফার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে হরিণখোলা দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ফুটবল খেলছিল হযরত আলী। সে খেলায় গোলকিপার হিসেবে অংশ নেয়। খেলা চলাকালে বলটি পাশ দিয়ে নিয়ে যাওয়া একটি গরুর কাছে চলে গেলে গরুটি ভয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে কবিরাজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রহিম ঘরামীর ছেলে মুছা ঘরামী ও তার সহযোগীরা হযরত আলীকে মারধর করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মারধরের পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লেও আর্থিক সংকটের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার চাচা ইউনুস খলিফা তাকে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের মা আছিয়া বেগম সন্তানের মৃত্যুতে আহাজারি করে বলেন, “আমার ছেলারে পিটাইয়া মাইরা ফেলাইছে, আমি এই ঘটনার বিচার চাই।”
নিহতের চাচা ইউনুস খলিফা জানান, “মুছা ঘরামী ও তার লোকজনের মারধরের কারণেই আমার ভাতিজার মৃত্যু হয়েছে। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সদ্যসাচী দাশ সানি জানান, হযরত আলী পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, তালতলী থানার ওসি (তদন্ত) শরিফুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
ঘটনার পর অভিযুক্ত মুছা ঘরামী ও তার সহযোগীরা পলাতক রয়েছে।






