গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা সদরে অবস্থিত “কাপাসিয়া কেন্দ্রীয় বাজারে” ১২ জুলাই রোববার ভোর প্রায় ৪টার দিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাতের পর মুহূর্তেই তা বাজারের মসজিদ সংলগ্ন কাপড়ের দোকান গুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মূহুর্তের মধ্যে ৯টি দোকান এবং একটি বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে ব্যবসায়ীদের নগদ টাকা সহ সোয়া কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন দেখতে পেয়ে তা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে কাপাসিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন ও রাজেন্দ্রপুর ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
কাপাসিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন অফিসার মোঃ মাহফুজুর রহমান জানান, আগুনের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে তাদের ২টি ইউনিট এবং রাজেন্দ্রপুরের ২টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন। বাজারের সরুপথে ঘটনাস্থলে তাদের পৌঁছতে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটেছে। বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের বর্ণনা মতে নগদ টাকা সহ সোয়া কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
আগুনে পুড়ে যাওয়া দোকান গুলো হলো- সারোয়ার আলমের মালিকানাধীন সাহাবা টেইলার্স এন্ড ফেব্রিক্সের ক্ষয়ক্ষতি ২৫ লাখ টাকা, আব্দুল কাইয়ুমের হাটহাজারী টেইলার্সের ক্ষয়ক্ষতি ২০ লাখ টাকা, আব্দুল কাইয়ুমের মেসার্স আল মদিনা টেইলার্সের ৭ লাখ টাকা, মোকাররম বিল্লাহর ঘাসফড়িং পাঞ্জাবী এন্ড ইসলামী আইটেমের দোকানের ক্ষয়ক্ষতি ১০ লাখ টাকা এবং ড্রাইফুড, খেজুর ও অন্যান্য অর্গ্যানিক আইটেমের ক্ষয়ক্ষতি ৭ লাখ টাকা, রাসেল মিয়ার ইসলামী পাঞ্জাবী দোকানের ক্ষয়ক্ষতি ২ লাখ টাকা, আজহারুল ইসলামের মেসার্স আল আজহার পাঞ্জাবী ও টেইলার্সের ১২ লাখ টাকা, তাজউদ্দীনের জুতার গোডাউনের ৫ লাখ টাকা এবং পাশ্ববর্তী গুড় ব্যবসায়ী আবুল কাশেম খানের টিনসেড বাড়ির ৬টি রুম পুড়ে ছাই হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে নগদ ৩ লাখ টাকা প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার এবং বাড়ির যাবতীয় আসবাবপত্র ও এসি সহ পুড়ে ৩৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তাদের দাবি।
এছাড়া মসজিদের জেনারেটর রুমের আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভোর ৪ টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে কাপাসিয়া থানার পুলিশ, কাপাসিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক আফজাল হোসাইন, সদস্য সচিব সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম শাহীন, কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন সহ স্থানীয় সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা ছুটে আসেন। কাপাসিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৪টি ইউনিট এবং উপস্থিত সকলের সার্বিক সহযোগিতায় অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা বড়ো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন।






