সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষে আহত ৫, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বক্তব্য প্রদানকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন জেলা জামায়াত আমির গুম করে আমাকে একটি রুমে রাখা হয়, সেখানে টেবিলের গায়ে লেখা ছিল সিটিআইবি: হুমাম কাদের চেয়ারম্যানের বাড়িতে দাঁড়িপাল্লার গণসংযোগ, জামায়াতের প্রার্থীকে শোকজ রাজারহাটে তিস্তা তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আড়ালে অবৈধ বালু বাণিজ্যের অভিযোগ এসজেডএইচএম ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণাধীন উম্মুল আশেকীন মুনাওয়ারা বেগম এতিমখানা ও হেফজখানা পরিচালনা পর্ষদের গঠিত নতুন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে পেট্রোল পাম্পে ডাকাতি মরহুমদের কবর জিয়ারত ও স্থানীয়দের সঙ্গে সাক্ষাতে কাঁঠালিয়ায় সক্রিয় সৈকত সিরাজদিখানে মা ও মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের বড় ধামাকা! হারানো ৮৬টি স্মার্টফোন ও হাতিয়ে নেওয়া টাকা ফেরত পেয়ে খুশিতে আত্মহারা মালিকরা

ডিমলায় বুড়ি তিস্তার ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি এলাকাবাসীর

জাহিদুল ইসলাম  / ৬৫
Update Time : সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৭ অপরাহ্ন

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের সাতজান এলাকায় বুড়ি তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে স্থায়ী রক্ষা পেতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভাঙ্গন কবলিত এলাকার লোকজনের  অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই ভয়াবহ নদীভাঙনে শত শত পরিবার গৃহহীন হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
গত বর্ষা মৌসুমে বুড়ি তিস্তার তীব্র ভাঙন দেখা দিলে নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ভিত্তিতে ইমারজেন্সি ওয়ার্ক হিসেবে পাইলিং স্থাপন করে ভাঙন সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। ওই সময় ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান এবং রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান চলতি শুকনো মৌসুমেই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেন।
কিন্তু বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি বলে দাবি ভাঙনকবলিতদের। এলাকাবাসী জানান, প্রতি বছর নদীভাঙনে সাতজান এলাকার বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। শুধু গত বর্ষা মৌসুমেই নাউতারা ইউনিয়নে প্রায় এক হাজার পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নদী খনন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও পুনর্বাসনের দাবিতে বিভিন্ন সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হলেও দীর্ঘদিন কার্যকর সাড়া পাওয়া যায়নি। জরুরি পাইলিং দেওয়া হলেও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় চরম উদ্বেগে দিন কাটছে নদীপাড়ের মানুষদের।
নদীভাঙনের ফলে হাজার হাজার একর আবাদি জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো জীবিকা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। পাশাপাশি নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার কারণে একাধিক স্কুল, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রতি বর্ষায় হুমকির মুখে পড়ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি,সাতজান মৌজায় দ্রুত নদী খনন,ভাঙনপ্রবণ এলাকায় স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও গাইড ওয়াল নির্মাণ,কার্যকর পানি নিষ্কাশন স্ট্রাকচার স্থাপন,ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ,কৃষি ও সেচ ব্যবস্থায় সহায়ক অবকাঠামো উন্নয়ন করা হোক।
এ বিষয়ে নাউতারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক ইমতিয়াজ মোর্শেদ মনি বলেন, আমার ইউনিয়নের সাতজান এলাকার ভাঙনকবলিত পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।
নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান বলেন, গত বর্ষা মৌসুমে জরুরি ভিত্তিতে পাইলিং দিয়ে ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ওই এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। মোট ৩.৩০ কিমি নদী ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী নদী তীর প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়ন করা হবে । প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গত ১৯ নভেম্বর, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর),ডিজাইন সার্কেল -৬ বাপাউবো, ঢাকা কে আহবায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সর্বোচ্চ ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত কাজ বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে পারবে । আগামী ১-২ সপ্তাহের মধ্যে কমিটির প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করার সম্ভাবনা রয়েছে ।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরুজ্জামান জানান, আমি নিজে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। জরুরি ভিত্তিতে পাইলিং দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, চলতি শুকনো মৌসুমেই জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণসহ দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বাস্তবায়ন করা হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর হুঁশিয়ারি,নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হলে আগামী বর্ষা মৌসুমে বুড়ি তিস্তার ভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ নেবে এবং নতুন করে বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category