সারা দেশের মতো হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলাতেও বইছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই নির্বাচন। আর এই নির্বাচনকে ঘিরে উপজেলার হাট-বাজার, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় এখন আলোচনার প্রধান বিষয়—কে হচ্ছেন আগামী দিনের কর্ণধার? তবে প্রার্থী বাছাইয়ের চেয়েও ভোটারদের মুখে বড় হয়ে উঠেছে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবি।
চায়ের টেবিল থেকে হাট-বাজার: সর্বত্রই নির্বাচনী আলোচনা
উপজেলার বামৈ বাজার, বুল্লা বাজার কিংবা কালাউক মোড়—প্রতিটি চায়ের দোকানেই এখন ভিড়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে ভোটারদের বিশ্লেষণ। ভোটারদের মতে, এবারের নির্বাচনের আমেজ অন্যবারের চেয়ে আলাদা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি বেছে নিতে মুখিয়ে আছেন তারা। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে উদ্দীপনা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
নির্বাচনী আলাপচারিতায় সাধারণ ভোটারদের সবচেয়ে বড় চাওয়া হলো ভোটের নিরাপত্তা। অনেক প্রবীণ ভোটার মন্তব্য করেছেন, “আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না। একটি সুন্দর ভোটকেন্দ্র আর শান্তিময় পরিবেশ চাই, যেখানে নির্ভয়ে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারব।” ভোটারদের সাধারণ দাবি—প্রশাসন যেন প্রতিটি কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যাতে কেউ অন্যের ভোট দিতে না পারে বা ভোটারদের বাধা দিতে না পারে।
নির্বাচনী মাঠে ইতোমধ্যেই সরব হয়ে উঠেছেন প্রার্থীরা। প্রধান দলগুলোসহ বিভিন্ন স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন এবং উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। বিশেষ করে কৃষিপ্রধান লাখাইয়ের জলাবদ্ধতা নিরসন, নদী দূষণমুক্ত করা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিই প্রাধান্য পাচ্ছে প্রার্থীদের বক্তব্যে।
লাখাই উপজেলা প্রশাসন ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত তদারকি করছে। লাখাইয়ের ভোটাররা আশাবাদী যে, দীর্ঘ সময় পর তারা একটি সুষ্ঠু ব্যালট যুদ্ধের সাক্ষী হতে যাচ্ছেন।
লাখাইয়ের মানুষের এখন একটাই প্রত্যাশা—সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির সূর্য যেন একটি গণতান্ত্রিক ও উৎসবমুখর সকাল নিয়ে আসে, যেখানে জয়ী হবে কেবল জনগণের রায়।