নীলফামারীর ডিমলায় গভীর রাতে বিএনপি নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ একাধিক ব্যবসায়ীর গোডাউনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা, লুটপাট ও ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় নগদ অর্থসহ প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট এবং স্থাপনা ভাঙচুর ও গুঁড়িয়ে দেওয়ায় আরও অন্তত ৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
ডিমলা থানায় দাখিলকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের চাপানীর হাট এলাকায়, হাট থেকে প্রায় ১০০ গজ উত্তরে অবস্থিত বিএনপির ইউনিয়ন সভাপতি মো. জিয়াউর রহমান ও ব্যবসায়ী জামিয়ার রহমানের গোডাউনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, উ: ঝুনাগাছ চাপানীর অচর উদ্দিনের ছেলে ব্যবসায়ী জামিয়ার রহমান (৪৩), ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও জামেতুল্লার ছেলে মো. জিয়াউর রহমান (৪০) এবং মাহামুদ্দিনের ছেলে জহরতুল্যা (৪৫) যৌথভাবে পৃথক গোডাউন নির্মাণ করে সেখানে ধানসহ বিভিন্ন পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। পাশাপাশি দুটি গোডাউন ফরিদুল ইসলাম ও মোতালেব হোসেনসহ এক নারীকে হোটেল ব্যবসার জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। চলতি মৌসুমে সেখানে ধান ক্রয়-বিক্রয়সহ নিয়মিত ব্যবসা কার্যক্রম চলছিল।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, উত্তর ঝুনাগাছ চাপানী গ্রামের মৃত আ. রাজ্জাকের ছেলে ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মমতাজ উদ্দিন মাস্টার (৫৫), তার দুই ভাই আ. মান্নান (৫৭) ও মনজুরুল হক (৪০)-এর নেতৃত্বে ১০-১২ জন সশস্ত্র ব্যক্তি গভীর রাতে গোডাউন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। এ সময় তারা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নগদ অর্থ, বিপুল পরিমাণ ধান, ব্যবসায় ব্যবহৃত মূল্যবান সরঞ্জাম ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা গোডাউনের ভেতর ও বাইরে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেয়। এতে টিন, কাঠামোসহ অন্যান্য সরঞ্জাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, এ ঘটনায় ডিমলা থানায় পৃথক তিনটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শওকত আলী সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনার বিষয়ে পৃথক তিনটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলো গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে গভীর রাতে এমন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।