নেত্রকোনার মদনে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ৫০ একর বোরো জমি অনাবাদি থাকার আশষ্কা রয়েছে। এ ব্যাপারে বোরো জমির একাংশের মালিক আবু তাহের নেত্রকোনা বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দশজনকে আসামি করে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৪৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি নিয়ে গ্রাম বৈঠক বসলেও বোরো চাষের শেষ মূহুর্তেও কোন নিস্পত্তি হয়নি। যে কোন মূহুর্তে ঘটতে পারে দু’পক্ষের মধ্যে বড় ধরণের সংঘর্ষের ঘটনা। এলাকায় বিরাজ করছে ব্যাপক উত্তেজনা।
মামলা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে ফতেপুর ইউনিয়নের বিরাশি মৌজায় বিভিন্ন দাগে প্রায় ৫০ একর জমি চাষবাদ করে আসছে বিরাশি হাসনপুর গ্রামের লুচু মিয়ার ছেলে আবু তাহের গংরা। এই ভুমির মধ্যে দুই একর ৮৩ শতাংশের মালিক দাবি করে বিরাশি গ্রামের জিতু মিয়ার ছেলে আনোয়ার গংরা। গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে আবু তাহের গংরা জমি চাষবাদ করতে গেলে আনোয়ারের লোকজন বাধাঁ দেয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে আশপাশের লোকজনের হস্তক্ষেপে পরিস্তিতি সাময়িক শান্ত হয়। এ ব্যাপারে আবু তাহেরের ভাই জাকির হাসান জাহের কিবরিয়াসহ ৯ জনকে অভিযুক্ত করে ১৩ ডিসেম্বর মদন থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এদিকে কোর্টের দায়ের কৃত মামলায় উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার জন্য ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে একটি নোটিশ জারি করেন এবং ২৫ জানুয়ারী ২০২৬ ইং তারিখে ভুমির কাগজপত্র নিয়ে দুই পক্ষকে কোর্টে উপস্তিত থাকার জন্য নির্দেশ দেন বিজ্ঞ আদালত।
এ ব্যাপারে একাংশের মালিক দাবিদার আনোয়ার জানান, আমরা ২ একর ৮৩ শতাংশ ভুমি ময়মনসিংহের মোক্তাগাছা জমিদারের ছেলের নিকট থেকে ক্রয়সূত্রে মালিক হয়েছি। কিন্তু আমরা এই বোরো জমি চাষাবাদ করতে গেলে লুচুর ছেলেরা বাধাঁ সৃষ্টি করে। এ ব্যাপারে এলাকায় দেনদরবার হলে আমাদেরকে দেড় একর জমি দেয় মাতাব্বরা। দখলকার লুচুর ছেলেরা এই রায় না মানায় ঘটনাটি শেষ হয়নি। এ ব্যাপারে কোর্টে একটি মামলা রয়েছে।
দখলকার লুচুর ছেলে আবু তাহের জানান, দীর্ঘ ৪২ বছর যাবৎ আমরা এ জমিটি চাষবাদ করে আসছি। ইদানিং বিরাশি গ্রামের জিতু মিয়ার দলের লোকেরা আমাদের বোরো চাষ করতে বাধাঁ দিচ্ছে । বোরো আবাদের শেষ সময় চলে আসলেও এখন পর্যন্তও আমাদের জমি চাষাবাদ করতে দিচ্ছে না। পানি সেচের মেশিনটিও চালু করতে দিচ্ছে না। এ ব্যাপারে কোর্টে মামলা করেছি এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোন ভরসা পাচ্ছি না। যদি দুই /তিন দিনের মধ্যে সেচের মেশিন চালু করতে না পারলে প্রায় ৫০ একর জমি অনাবাদি থাকবে। এতে আমাদের পরিবারকে পথে বসতে হবে।
এ ব্যাপারে মদন থানার ওসি মোঃ হাসনাত জামান জানান, থানায় আমি নতুন কাজে যোগদান করেছি। অভিযোগটি দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইউএনও বেদবতী মিস্ত্রী জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগটি পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।